বেক্সিমকোর বন্ধ কারখানা নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল

অনলাইন ডেস্ক
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দাবি আদায় না হওয়ায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকরা বুধবার (২২ জানুয়ারি) ফের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের সময় শতাধিক গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া করতে দেখা যায় বহিরাগতদের। কিছুক্ষণ পর পর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনও যানবাহন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

বুধবার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের আন্দোলনরত শ্রমিকরা। বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে গণপরিবহনে ভাঙচুর, সড়কে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) শ্রমিকদের এক গণসমাবেশে বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না পেয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে বুধবার বিকেল ৩টা থেকে গাজীপুর মহানগরীর শ্রীপুর সানসিটি মাঠে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ ডাকেন শ্রমিকরা। সমাবেশের এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা যানবাহনে ভাঙচুর চালান। এসময় তারা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালান।

জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা। আমরা তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।

বেক্সিমকোর বন্ধ হওয়া ১৬ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই সড়কে চলাচলকারী তিনটি বাস এবং একটি লরিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ভাঙচুর করেন অর্ধশতাধিক যানবাহন। তারা এক পর্যায়ে তেতুইবাড়ী এলাকায় গ্রামীণ ফ্যাব্রিকস কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন এবং আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে।

শ্রমিক, পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মৌচাকের আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা প্রায়ই রাতে কারখানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে টাকা-পয়সা খোয়াচ্ছেন। আহতও হয়েছেন অনেকে। ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার এবং এক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবিতে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।

জানা যায়, কালিয়াকৈরের মৌচাকের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় বুধবার সকালে ল্যাভেন্ডার গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। দাবি আদায়ের আন্দোলনে ওই কারখানার শ্রমিকরা যোগ না দেওয়ায় অন্য কারখানার শ্রমিকরা হামলা চালিয়ে এই ভাঙচুর করেন। হামলায় কারখানার দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর ওই কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হযেছে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ল্যাভেন্ডার গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় হামলা চালিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে থাকা মূল্যবান মালপত্র, আসবাব, যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

কারখানার এইচআর অ্যাডমিন আখতারুজ্জামান বলেন, বহিরাগত শ্রমিকরা কারখানায় এসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন। এতে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এই ঘটনার পর কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। কবে কারখানা খোলা হবে তা পরে জানানো হবে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি রিয়াদ মাহমুদ বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে ওই কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights