বেনজীর এবং অর্থ পাচারকারীদের ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ

বিশেষ প্রতিনিধি

দুর্নীতির শিরোমণি পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ যে একজন দুর্বৃত্ত তা বাংলাদেশের সবারই জানা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলে, বেনজীর দেশত্যাগ করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বেনজীর বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি। বেনজীরের গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিল। এ লক্ষ্যে দুবাই পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে, তার জামিন বাতিল করে দেশে ফেরত আনার জন্য একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুবাইয়ের আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই কম। বেনজীর একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য সবাই জানেন, কিন্তু তার পরও বেনজীরের মতো অর্থ পাচারকারীকে কেন ফেরত আনা যাচ্ছে না? শুধু বেনজীর একা নয়, বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার করে যারা বিদেশে বসে আরাম আয়েশে জীবনযাপন করছেন তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না কেন? কেন পাচার করা অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হচ্ছে না?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের দেশের আইন এবং অর্থ পাচার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ পাচার নিয়ে তদন্তে একটি শ্বেতপত্র কমিটি গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।’

আওয়ামী লীগের পতনের পরও অর্থ পাচার বন্ধ হয়নি। বরং, ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। শুধু সুইস ব্যাংকেই জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে পারলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু ইউনূস সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের হাঁকডাক শোনা গেলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ড. ইউনূস নিযুক্ত গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পাচারকৃত কিছু অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বিদায়ের আগে তিনিই উল্টো সুরে কথা বলেন, তিনি বলেন, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অনেক বছর সময় লাগবে। বর্তমান সরকারও দায়িত্ব গ্রহণের পর পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং পাচারকারীদের ফেরত এনে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে যথেষ্ট সফল। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে?

আইন ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে পাঁচটি কারণ শনাক্ত করেছেন।

প্রথমত, বাংলাদেশের আইন ও বিচারের দুর্বলতা- বাংলাদেশে অর্থ পাচার নিরূপণ এবং বিচারের ক্ষেত্রে যেসব আইন রয়েছে তা অধিকাংশই আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয়। বাংলাদেশে অর্থ পাচার হিসেবে গণ্য অনেক লেনদেন অন?্য দেশে পাচার হিসেবে বিবেচিত হয় না। ফলে শুরুতেই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে অনেক দেশই প্রশ্ন তোলে। সম্প্রতি বেনজীর আহমেদের জামিনের প্রশ্নে দুবাইয়ের আদালতে আসামির পক্ষে আইনজীবী বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতে বেনজীরের পক্ষে আইনজীবী বলেন, আসামি বাংলাদেশে গেলে ন?্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি- যুক্তরাজ্যের একটি আদালত সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, অর্থ পাচারের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে অধিকাংশ অভিযুক্ত অর্থ পাচারকারী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে দাবি করেন অথবা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এরপর যখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয় তখন শুরুতেই অভিযোগটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া দেখা যায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া ঢালাওভাবে বিভিন্ন ব?্যবসায়ী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে হয়রানি করা হয়। ফলে শুরুতেই সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। এই যেমন ইউনূস আমলের কথাই ধরা যাক, কোনোরকম তদন্ত, তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন শিল্প গ্রুপকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। ন্যূনতম তথ্য প্রমাণ ছাড়াই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু এতে ওইসব প্রতিষ্ঠানের যত না ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। এর মাধ্যমে ড. ইউনূস প্রকারান্তরে প্রকৃত অর্থ পাচারকারীদের আড়াল করতে সহায়তা করেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ দায়ের করে ইউনূস সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থ পাচার তদন্তের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এর ফলে বিশ্বের যে দেশেই বাংলাদেশ অর্থ পাচার নিয়ে কথা বলতে গেছে, সেই দেশই এ নিয়ে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

তৃতীয়ত, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বৈধ পথে অর্থ প্রবেশ- বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ সরাসরি অন্য দেশে যায় না। এই অর্থ পাচার হয় তৃতীয় দেশের মাধ্যমে। ধরা যাক, সিঙ্গাপুরে যারা অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তারা কেউই সরাসরি এই অর্থ সিঙ্গাপুরে পাচার করেননি। এই টাকা প্রথমে একটি কোম্পানির মাধ্যমে তৃতীয় দেশে গেছে। সেখান থেকে টাকা বৈধ পথে গন্তব্য দেশে গেছে। কাজেই যে দেশে এই টাকা এখন আছে, সেই দেশে বৈধ পথেই টাকা ঢুকেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যখন গন্তব্য দেশের কাছে টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তখন তারা এই আবেদন আমলে নিতে রাজি হচ্ছে না। কারণ তারা এটাকে অবৈধ বলে বিবেচনা করছে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত গন্তব্য দেশ এই টাকা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে বলে মনে করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তারা কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য নয়।

চতুর্থত, নাগরিকত্ব বিভ্রাট- কথিত অর্থ পাচারকারীদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক। তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিচয়ে টাকা রাখেননি। ভিন্ন কোনো দেশের নাগরিকত্ব পরিচয় দিয়ে পাচারকৃত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। ফলে বাংলাদেশ যখন তাকে তার দেশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার চাইছে, তখন আইনের দৃষ্টিতে তা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।

পঞ্চমত, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হয়েছে তার প্রমাণ- অর্থ পাচার আইনে পাচারকৃত অর্থ এবং অন্য দেশে জমাকৃত অর্থের পরিমাণে মিল থাকতে হবে। পাশাপাশি, এটি তখনই পাচার হিসেবে বিবেচিত হবে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার আয়ের উৎস প্রমাণে ব্যর্থ হবেন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা অধিকাংশই বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে তাদের অর্থ বৈধতা দিয়েছে।

ফলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি জনপ্রিয় স্লোগান হলেও বাস্তবে অর্থ উদ্ধারে তেমন অগ্রগতি নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা বলেছিল। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আইনি সহযোগিতা চুক্তি সক্রিয় করা, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (এমএলএ) পথ ব্যবহার করা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা কাঠামোর সহায়তা নেওয়ার কথা আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ফলাফল শূন্য। বাস্তবতা হলো, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় প্রমাণের মান, সময়সীমা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা- সবকিছুই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

বেনজীরের ঘটনা আমাদের সামনে একটি দৃষ্টান্ত। এখান থেকেই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ করতে হলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি, এই ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইউনূস সরকার অর্থ পাচার ইস্যুর যথেচ্ছ অপব্যবহার করেছেন। ফলে দেশের জনগণের কাছে যেমন এই বিষয়টি তেতো এবং অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছে তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে এর গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে।

অর্থ পাচার রোধে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য এবং পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতেই হবে।

১) ঢালাওভাবে কারও বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ না এনে আগে সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করতে হবে।

২) গোঁজামিলের হিসাব না করে প্রকৃত পাচার হওয়া অর্থের বিজ্ঞানসম্মত হিসাব বের করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে টাকার গতিপথ খুঁজে বের করে বিশ্বাসযোগ্য উপাত্ত তৈরি করতে হবে।

৩) বিদেশি ল’ ফার্মের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে হবে।

৪) অর্থ পাচার ইস্যুকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য কোনোভাবেই এই ইস্যুটি ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়েছে, এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। কারা এই অর্থ পাচার করেছে তাও মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু মুখের কথায় হবে না, উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের এই ইস্যুটি উপস্থাপন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আর যেন এ ধরনের লুণ্ঠন না হয় সেজন্য সরকারকে যুগোপযোগী আইন এবং পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights