বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য : মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুদে বিজ্ঞানীদের মাঝ থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের বিশ্বজয়ী বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।

সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ এর প্রদর্শনী ও চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং দক্ষতা, যোগ্যতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মানবিক মূল্যবোধের সুসমন্বয় থাকবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার মেধা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পায় এবং তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনী ইশতেহার ও বৈষম্যহীন শিক্ষার প্রতিফলন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ইশতেহারের ১০টি বিষয়কে শিক্ষায় কাভার করার চেষ্টা করছি। দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ভৌগোলিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বৈষম্য না রেখে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একত্র করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় কতটা এগিয়ে যাচ্ছে।

চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত প্রজেক্টগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকের ফাইনালে আসা প্রজেক্টের প্রতিটি উদ্ভাবনী নিয়মিত নার্সিং করব, প্রয়োজনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেব এবং প্রতি মাসে এ বিষয়ে আপডেট নেওয়া হবে, যাতে এগুলো সফল স্টার্টআপ হিসেবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রতিটি টিমে ৩ জন শিক্ষার্থীর সাথে ২ জন শিক্ষককে রাখা হয়েছে। আজ শিক্ষকদেরও ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights