বোচাগঞ্জে প্রথমবার ব্ল্যাক রাইস চাষ: সম্ভাবনার হাতছানি তরুণ উদ্যোক্তার

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে ভিয়েতনাম জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রকিবুল হক নিজ উদ্যোগে এই চাষাবাদ করেছেন। কম পরিচর্যা ও খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও এই ধান চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

অনলাইনে ব্ল্যাক রাইস সম্পর্কে জানার পর রকিবুল হক এর চাষে উদ্বুদ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে ৫৫০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কিনে তা খেয়ে দেখার পর তিনি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে অনলাইন থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় চারা তৈরি করেন।

পরিবারের কাছ থেকে পৈতৃক জমিতে চাষের অনুমতি না পেয়ে তিনি ২৪ হাজার টাকায় ৩৩ শতক জমি ইজারা নেন। গত ৯ জুলাই সেই জমিতে তিনি ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপণ করেন। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর এই ধান কাটার সময় নির্ধারিত রয়েছে।

রকিবুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক রাইস চাষে সাধারণ ধানের তুলনায় অতিরিক্ত সার, সেচ কিংবা আলাদা কোনো বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ৩৩ শতক জমি থেকে তিনি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্ল্যাক রাইস প্রায় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে উৎপাদনের অন্যান্য খরচ বাদ না দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও বাজারদর পেলে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ধান বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্ল্যাক রাইস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ফাইবার এবং আয়রনসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাদ্য। উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে বিশ্বজুড়ে একে ‘সুপারফুড’ বলা হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে এই চালের উপকারিতার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। শৌখিন ক্রেতা এবং চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এই চালের বিশেষ কদর রয়েছে।

ধান কাটার আগেই খেত দেখতে স্থানীয়রা ভিড় জমাচ্ছেন এবং অনেকে আগাম বীজ সংগ্রহের জন্য রকিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। শম্ভু রায় ও জুয়েলের মতো স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধানের ভালো ফলন ও সুন্দর লতা দেখে তারাও আগামীতে এই ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

শুরুতে ইন্টারনেটের প্রভাবে ছেলের এই উদ্যোগকে ‘পাগলামি’ ভেবেছিলেন রকিবুলের বাবা আমিনুল হক। যে কারণে তিনি পৈতৃক জমি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বর্তমানে খেতের সন্তোষজনক অবস্থা দেখে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। আমিনুল হক জানান, ছেলের সফল উদ্যোগ দেখে আগামীতে তাকে যেকোনো সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ধানের চাল উৎপাদন ও দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান জানান, বোচাগঞ্জে এই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষ হয়েছে। সঠিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল হতে পারে। প্রশাসন এই উদ্যোক্তার সফলতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights