ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সূর্যমুখী থেকে ৯৭ মেট্রিক টন তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সূর্যমুখী ফুলের হাসিতে কৃষকের মুখে মুখে এখন হাসি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ১১ বছর ধরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন কৃষকরা। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৮২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ৫৪ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ৯৭ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন করা হবে।

প্রতিদিন জেলা শহরসহ আশপাশ এলাকা থেকে সৌন্দর্যপিয়াসুরা দলবেঁধে আসেন এই সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে। অনেকেই বাগানে ঢুকে শখ করে ছবি তোলেন। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, অল্প পুঁজিতে সূর্যমুখী চাষে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী দিনে ভালো ফলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সরেজমিন সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপির খেওয়াই গ্রাম, রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রাম, মজলিশপুর ইউপির সেন্দ গ্রাম ও পৌর এলাকার ভাদুঘর, নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউপির রসুলপুর ঘুরে দেখা গেছে সূর্যমুখী ফুলের বাগান।

চাষিরা জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রামের জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। এরইমধ্যে গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মন মাতানো ঘ্রাণ, হলুদের সমাহার। গ্রামে সূর্যের মতো হাসি দেওয়া হলুদগালিচা ছড়ানো ফুলের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন বাগানে আসছেন ভ্রমণপিপাসু নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

রসূলপুর বাগান মালিক জয়নাল আবেদিন বলেন, এখানে আড়াই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। আড়াই বিঘা জমি চাষে আমাদের প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে ফুল এখন গাছে আছে তা দিয়ে আশা করছি লাভবান হতে পারব। এক বিঘা (৩০ শতাংশ) জমিতে সরিষা চাষ করলে যেমন তেল হয়,
সূর্যমুখীতেও তাই হবে। তেল বিক্রি করে লাভবান হলে আগামীতে আরও বাড়িয়ে জমিতে সূর্যমুখী চাষাবাদ করা হবে।

পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের সূর্যমুখী ফুলের চাষি শাহানুর ভূঁইয়া জানান, আগে তিনি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করতেন। গত কয়েক বছর ধরে সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছিলেন। বেশ ভালো ব্যবসা হয়েছে। তাই এই বছরও সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ধান ও সবজির বাজারমূল্য কম থাকাতে সূর্যমুখী চাষ বেশ লাভজনক হবে বলে আশা করি। স্থানীয়ভাবে সরিষার তেল যে মেশিনে ভাঙানো যায় সেখানে সূর্যমুখী ফুলের বীজ ও ভাঙানো যাবে। কৃষি অফিস থেকে আমাদেরকে বিনা মূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যেই প্রতিটি গাছেই
ফুল ধরেছে। আশা করি, এবারও সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে।

মজলিশপুর ইউপির বুধল গ্রামের কৃষক সরন মিয়া জানান, আগে তিনি তার জমিতে আলু, ধনিয়া, টমেটো, ঢ্যাঁড়স চাষ করতেন। কৃষি অফিসারের পরামর্শে ও অন্যদের দেখে উৎসাহিত হয়ে এ বছরই প্রথমবারের মতো জমিতে ৪০ শতাংশ জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে সব সময় খোঁজখবর রাখা ও তদারকি করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমরেশ দাশ গুপ্ত জানান, এবার পৌরসভায় কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২ প্রদর্শনীতে সূর্যমুখীর আবাদ করা
হয়েছে। ২ জন কৃষককে এক বিঘা জমি পরিমাণ বীজ এবং সার বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আটটি প্রদর্শনী স্থাপন হয়েছে। প্রায় ৩০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন জানান, চলতি বছর ৮২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ৫৪ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হেক্টর, সরাইল ১ হেক্টর, কসবা ৩ হেক্টর, নবীনগর ১২, নাসিরনগর ৬ হেক্টর, বাঞ্চারামপুর ১৮ হেক্টর, আখাউড়া ৪ হেক্টর, আশুগঞ্জে ৫ হেক্টর ও বিজয়নগর উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ৯৭ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights