ভারত ইস্যুতে সরব মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া!

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং ভারতের ওপর বড় মাপের শুল্ক আরোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সঙ্গে ট্রাম্প সমর্থকদের বিরোধ বেড়ে চলেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গ ত্যাগ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফর এবং দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়াগুলো প্রবাসী ভারতীয়দের সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক নানা প্রচারণা শুরু করেছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স-এ এ ধরনের বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য দায়ী করা হচ্ছে ‘ম্যাগা’ (মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সাপোর্টারদের। ‘এশিয়ান-আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) ইক্যুইটি অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুসা কুলকার্নি ৩০ আগস্ট মার্কিন গণমাধ্যমে এ অভিযোগ করেছেন। শুল্কারোপের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ছাড়াও ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ না করায় মোদির প্রতি ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট- এমন তথ্য গণমাধ্যমে আসার পাশাপাশি মোদির চীন সফরের ব্যাপারটি ট্রাম্প সমর্থকদের প্রচ ভাবে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা ছাড়াও ওই নির্বাচনে বিজয়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের স্ত্রী ভারতীয় আমেরিকান ঊষা ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি হওয়ার সময় থেকেই শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের মধ্যে এক ধরনের হিংসার প্রকাশ ঘটতে শুরু করে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন কলকারখানা, বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সেক্টরে দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি ভিসায় ভারতীয়দের আগমন ব্যাপকভাবে ঘটার বিষয়টি। ইউএসসিআইএস (ইউনাইটেড স্টেট সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে এইচ-১বি ভিসার ৭১% পেয়েছেন ভারতীয়রা। মঞ্জুসা কুলকার্নি ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন, বিশ্বে সেরা একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এটি সম্ভব হয়েছে ভারতীয় তথা দক্ষিণ এশিয়ান মেধাবীদের নিঃস্বার্থভাবে মেধা বিনিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে। বিভিন্ন দেশের কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসীগণের মধ্যে ভারতীয় তথা দক্ষিণ এশিয়ানরা বরাবরই ঝলসে উঠেছে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে। তারপরও কেন বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে? সাউথ এশিয়ান অ্যান্ড ইন্ডিয়ান আমেরিকান ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক চিন্তন পাটেল বিদ্বেষী আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যে আমেরিকাকে আমরা চিনি তা এখন অদৃশ্য হতে চলছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণে তার উগ্রপন্থি সমর্থকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে- যা কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights