ভারত থেকে দেশে ফিরলো পাচার হওয়া ২০ কিশোর-কিশোরী

বেনাপোল প্রতিনিধি

ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচারের শিকার ২০ বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরীকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।

দেশে ফিরে আসা কিশোর-কিশোরীরা জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে একাধিক সীমান্ত পথে দালালদের খপ্পরে পড়ে ভারতে পাচার হয়। পরে তারা দিল্লি-মুম্বাই-কলকাতা সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রায় ১ বছর শেল্টার হোমে কাটিয়েছে। দেশে স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে তারা খুশি।
এদিন, দেশে ফিরে আসা কিশোর-কিশোরীদের নিতে কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বজনরা ছুটে এসেছেন বেনাপোলে।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন ও হরিদাশপুর থানা পুলিশ কর্মকর্তা সহ ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মধুমিতা হালদার, কলকাতা দূতাবাসের শিকদার আশরাফ হোসেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের বিদোষ রায়, শার্শার এসিল্যান্ড নুসরাত ফারিয়া সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসা কিশোর-কিশোরীদের তিনটি এনজিও সংস্থার হাতে তুলে দেন। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটকের পর তারা ভারতের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, দালালের খপ্পরে পড়ে ভাল কাজের প্রলোভনে ১ থেকে দেড় বছর আগে তারা বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে যায়। পরে দালালরা তাদের বিভিন্ন জনের নিকট বিক্রি করে দেয়। পাচার হওয়া কিশোরীদেরকে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য করে। এ সময় কেউ জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় পুলিশের হাতে ধরা দেয় আবার কাউকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ আটক করে।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় নাগরিকতা যাচাই শেষে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যথাযথ আইনি সহায়তা ও পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সংস্থা, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস এন্ড কেয়ার নামক তিনটি পৃথক সংস্থা (এনজিও) তাদের পোর্ট থানা বেনাপোল থেকে গ্রহণ করে। পরে সংস্থা গুলো তাদের প্রকৃত অভিভাবকদের হাতে তুলে দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights