ভিআইপি বক্সে বসে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের খেলা দেখল ভাইরাল কুকুর ‌‌‘ব্রডি’

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দের মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছিল। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে মাঠে মেসি-লাউতারোদের পায়ের জাদু ছাপিয়ে গ্যালারির ভিআইপি বক্সে এক বিশেষ দর্শককে নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়াতোলপাড় চলছে। সে কোনো মানুষ নয়, বরং ‘ব্রডি’ নামের একটি গোল্ডেন ডুডল (গোল্ডেন রিট্রিভার ও পুডল জাতের মিশ্রণ) কুকুর। স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল বক্সে বসে মানুষের মতো হেডফোন কানে দিয়ে ম্যাচ উপভোগ ও শ্যাম্পেন পানের দৃশ্য তাকে রাতারাতি ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত করেছে।

ছয় বছর বয়সী ব্রডিকে বলা হয় ‘এই গ্রহের সবচেয়ে বিখ্যাত কুকুর’। মায়ামির স্টেডিয়ামে যখন হাজার হাজার দর্শক চিৎকার করছিলেন, তখন ব্রডি কানে আওয়াজরোধী বিশেষ নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন পরে আয়েশ করে বক্সে বসে ছিল। শুধু খেলা দেখাই নয়, ভিআইপি অতিথিদের মতো তার জন্য পরিবেশন করা হয়েছিল বিশেষ খাবার ও শ্যাম্পেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রডির এই আভিজাত্যপূর্ণ ও কিউট লুকের ছবি এবং ভিডিও আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিশ্বমঞ্চে ফুটবল ভক্তদের কাছে নতুন হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবলপ্রেমীদের কাছে ব্রডি বেশ পরিচিত মুখ। এর আগেও বহুবার আমেরিকার এনবিএ ম্যাচগুলোতে তাকে গ্যালারিতে ফ্রন্ট রো-তে বসে খেলা উপভোগ করতে দেখা গেছে।

ইনস্টাগ্রামে ২০ লাখেরও বেশি অনুসারী থাকা এই কুকুরের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে একটি দারুণ মানবিক গল্প। ২০২৩ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে ব্রডি প্রথম মার্কিন গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। মায়ামির চিলড্রেন হসপিটালের অসুস্থ শিশুদের জন্য খেলনা কিনতে ব্রডি ও তার মালিক মিলে নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। এই মহৎ কাজে তারা মায়ামি বিচ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কে-৯ ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেন। বর্তমানে ব্রডি যে পরিমাণ অর্থ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করে, তার সিংহভাগই বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কাজে ব্যয় করা হয়।

ব্রডির মালিক ক্লিফ ব্রাশ মূলত তার এই প্রিয় পোষ্যের দেখাশোনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সামলানোর জন্য নিজের নিয়মিত চাকরি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছেন। ক্লিফ নিজেই ‘লাইকেন প্ল্যানাস’ নামক একটি জটিল চর্মরোগে ভুগছেন। তিনি জানান, ব্রডি তার জীবনে আসার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অনেক সুস্থ আছেন এবং তার এই রোগের তীব্র আক্রমণ বা অ্যাটাক এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

একাধারে মানবিক কাজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, মালিকের জীবন রক্ষাকারী বন্ধু এবং এখন ফুটবল বিশ্বকাপের গ্যালারি কাঁপানো সেলিব্রিটি— সব মিলিয়ে ব্রডি মায়ামির ম্যাচ ছাড়িয়ে এখন ফুটবল ইতিহাসেরই এক রোমাঞ্চকর অংশে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights