ভিক্ষুক বাড়ছে ঢাকায়

সুদীপ্ত দাস

রাজধানী ঢাকায় বাড়ছে ভিক্ষুক। বিভিন্ন এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন। অভিজাত এলাকায় ১০ টাকার নিচে দিলে নেয় না। শিশু, অন্ধ, বিকলাঙ্গ, বিধবা ও বৃদ্ধ নারী এবং পুরুষের পাশাপাশি সুস্থসবল দেহের মানুষও ভিক্ষা করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, উত্তরার জমজম টাওয়ার, আবদুল্লাহপুর, হাউস বিল্ডিং এলাকা, গুলিস্তান মার্কেট, কাকরাইল, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, মতিঝিল শাপলা চত্বর, নিউমার্কেট, পুরান ঢাকা, পান্থপথ, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তি নিত্যদিনের দৃশ্য। বিভিন্ন স্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের সামনেও ভিক্ষাবৃত্তি চলছে। ভিক্ষুকমুক্ত সাইনবোর্ড, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও কমছে না ভিক্ষুক।

ভিক্ষা করতে অনেকে নানান কৌশলও ব্যবহার করছে। কেউ হুইলচেয়ারে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা প্রদর্শন, কেউ গলায় অথবা হাতে হাসপাতালের প্রেসক্রিপসন নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে। অনেক নারী, ভাড়া করা বাচ্চা কোলে নিয়ে টাকা চাইছে। বাসে যাত্রীদের কাছে ছোট কাগজে সহানুভূতির আবেদন লিখে ভিক্ষা চাইছে অনেকে।

বিমানবন্দর রেলস্টেশনের সামনে সাত বছরের ভিক্ষুক শায়রার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা পঙ্গু। কাজ করতে পারে না। মায়ের উপার্জনে সংসার চলে না। শায়রা আগে রাস্তায় ফুল বেচত। তেমন আয় না হওয়ায় ছোট ভাইকে নিয়ে ভিক্ষা করে। প্রতিদিন তার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আর ঈদের সময় ৩-৪ হাজার টাকার বেশিও আয় হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখার উপপরিচালক মো. শাহ জাহান বলেন, ভিক্ষা ‘সহজ পেশা’। হাত পাতলেই টাকা। পরিশ্রম করতে হয় না। অনেকে দিনে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে। মাসে ১০-১৫ হাজার টাকার কাজের প্রস্তাব পেলেও ভিক্ষা ছাড়ে না।

শাহ জাহান বলেন, ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অভিজাত এলাকায় বড় অঙ্কের ভিক্ষা দেওয়া হয়। ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হলেও ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করা সম্ভব হয় না। কয়েকজনকে পুনর্বাসন করলে আরেক দল এসে ভিক্ষা করে।

আগে ব্যাপকভাবে শিশুদের ব্যবহার করে ভিক্ষা করা হতো। শিশুদের ভাড়া করে আনা হতো। এটি গুরুতর অপরাধ। আইন অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ অভিযানের ফলে এই প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights