ভূরুঙ্গামারীতে জমি বিরোধের জেরে কুপিয়ে জখম করে ধান লুটের অভিযোগ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১৪.১২.২০২৫
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গোলাপ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের ক্ষেত থেকে কেটে রাখা পাকা ধান লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মতিন–লাভলু গংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল মতিন, লাভলু মিয়া ও তাদের সহযোগীদের নেতৃত্বে ১৪–১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা জমিতে কেটে রাখা ধানের আটি নিয়ে লাভলু মিয়ার বাড়ির দিকে যেতে চাইলে আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে কয়েকজন আহত হন। এ সময় গোলাপ উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা পরে ক্ষেতের ফসল জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গোলাপ উদ্দিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় গত ৮ ডিসেম্বর ভূরুঙ্গামারী থানায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং–০৬/২০২৫)। পুলিশ প্রধান আসামি আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলার অন্যান্য আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
আনোয়ার হোসেন জানান, মামলা না তুললে পুনরায় হামলা, প্রকাশ্যে মারধর এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মতিন–লাভলু গং তার পুকুর, গাছের বাগান এবং আবাদিসহ এক একর জমিতে চাষাবাদে দীর্ঘদিন ধরে বাধা দিয়ে আসছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুন্তাসির মামুন মুন জানান, গত ১১ ডিসেম্বর ঘটনাস্থল তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
