ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:২০.০১.২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটবোঝাই একটি ট্রাকের অতিরিক্ত ভারে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়েছে। এতে সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি ইটবোঝাই ট্রাক সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় দুধকুমার নদের ওপর অবস্থিত সোনাহাট সেতুর স্টিল অংশে ওঠে। এ সময় অতিরিক্ত লোডের কারণে সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে ট্রাকটি দেবে যায়। ঘটনার পরপরই সেতু দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, সেতুটির সর্বোচ্চ লোড ধারণক্ষমতা ১০ মেট্রিক টন হলেও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিতে প্রায় ৩৯ টন মালামাল পরিবহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ট্রাকটি দেবে যাওয়ার পর সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেক মানুষ নৌকায় নদী পার হচ্ছেন।
সোনাহাট এলাকার একটি ব্যাংকে কর্মরত মনির বলেন, “প্রতিদিনের মতো আজও সময়মতো বের হয়েছিলাম। এসে দেখি ট্রাকে অতিরিক্ত লোডের কারণে সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হয়েছি।”
গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, জবেদ আলী ও মজিবর জানান, মঙ্গলবার ভূরুঙ্গামারীতে সাপ্তাহিক গরুর হাট বসে। সকাল আটটার মধ্যে হাটে পৌঁছাতে পারলে ভালো জায়গা পাওয়া যায়। তারা একটি ভটভটিতে আটটি গরু নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেতু বন্ধ থাকায় নৌকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময়মতো হাটে পৌঁছাতে না পারলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী, বঙ্গসোনাহাট, বলদিয়া, তিলাই ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের একাংশসহ নাগেশ্বরী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।
দীর্ঘদিনের পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে আসছে যানবাহন। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে যাওয়া ও ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও জীবিকার তাগিদে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওভারলোডের কারণে সাধারণত মামলা হয় না, তবে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সেতুটির ধারণক্ষমতা ১০ টন হলেও ট্রাকটিতে প্রায় ৩৯ টন মালামাল বহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও ইট ক্রয়কারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
###
