ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, যা বলছে রাশিয়া
অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটা কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে। মস্কোর দাবি, ভেনেজুয়েলায় হামলার যে অজুহাত দেখানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার যে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে মানা যায় না। একই সঙ্গে রাশিয়া ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
রাশিয়া আরও জানায়, এই হামলায় কোনো রুশ নাগরিক হতাহত হননি। ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকায় রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ। তবে এই পরিস্থিতিতে কারাকাস সরকারকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ক্রেমলিন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই অভিযান নিয়ে আলোচনা চলছে। রিপাবলিকান পার্টির এক প্রভাবশালী নেতা দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মাইক লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে জানিয়েছেন, মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে।
সিনেটর লির দাবি, এই সামরিক অভিযান মূলত মাদুরোর বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই চালানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের আওতায় পড়তে পারে, যেখানে মার্কিন নাগরিক ও কর্মীদের সুরক্ষার কথা বলা আছে।
তবে একই সিনেটর আগে এই হামলার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, যুদ্ধ ঘোষণা বা কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এমন সামরিক অভিযান চালানো কতটা সাংবিধানিক।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক জোরালো হচ্ছে।
প্রতিরোধের ঘোষণা
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মাটিতে কোনো বিদেশি সেনা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই হামলা প্রতিরোধ করতে হবে।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে পাদ্রিনো লোপেজ জানান, মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকা আক্রান্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
