ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে জড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, তবে মাদুরোর দিন শেষ: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দিয়েছেন মিশ্র বার্তা। তিনি একদিকে ‘যুদ্ধের’ আলোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন, আবার অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার সময় ফুরিয়ে এসেছে।

স্থানীয় সময় রবিবার প্রকাশিত মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সময় শেষ হয়ে এসেছে।” এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটি সম্প্রতি একাধিকবার কথিত মাদকবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মতে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সাক্ষাৎকারে যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াচ্ছে, তিনি জবাব দেন, “আমার তা মনে হয় না। আমি তেমনটা ভাবি না।” তবে প্রশ্ন করা হলে, মাদুরোর সময় কি শেষ হয়ে এসেছে, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি।”

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ‘নার্কো-টেররিজম’ বা মাদক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশের ভেতরে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। যদিও তিনি সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনই বলব না যে আমি সেটা করব। আমি বলব না, ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে আমি কী করতে যাচ্ছি।”

এদিকে, ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া এই রাজনীতিক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরাতে সহায়তা করলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকেও স্বাগত জানাবেন।

মাচাদো মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার বিশ্বাস, এখন যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, সেটাই একমাত্র উপায় মাদুরোকে বুঝিয়ে দেওয়ার যে, তার এখন চলে যাওয়ার সময় এসেছে।”

ব্লুমবার্গসহ একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ওই এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের বাইরেও এই অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে রাজনৈতিক। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভেতরে সরাসরি হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবুও জানা গেছে, সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকা তিনি পর্যালোচনা করেছেন।

সূত্র: সিবিএস, ব্লুমবার্গ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights