ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন দূতের সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সফররত মার্কিন দূত লরা ডগু। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন দূত।

সোমবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ‘মিরাফ্লোরেস’-এ তারা মিলিত হন। এ সময় দুই দেশের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা; ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে জানান, জ্বালানি, বাণিজ্য, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

গিল আরও জানান, ভেনেজুয়েলার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘কূটনৈতিক প্রতিনিধি’ হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করবেন। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের ভাই, দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ক একটি রোডম্যাপ নিয়ে এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।”

ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, এই সাক্ষাতে ডগু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দেওয়া ‘রূপরেখার তিনটি পর্যায়ের কথা’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এগুলো হলো, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্মিলন এবং রূপান্তর।

কয়েক মাসের চরম উত্তেজনার পর জানুয়ারির প্রথম দিকে কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এর ফলে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়; মাদুরোর মিত্র ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও তেল আইন সংস্কারের মতো পদক্ষেপ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে দুই দেশ ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে। এছাড়া শুক্রবার রদ্রিগেজ কয়েকশ বন্দির জন্য ‘সাধারণ ক্ষমার’ প্রস্তাব দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে আসছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights