ভেনেজুয়েলার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়াবে রাশিয়া?
অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি আবারও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। ওয়াশিংটনকে এই সংকটে কোনো প্রকার মারাত্মক ভুল না করার হুঁশিয়ারি দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, মস্কোর এই সমর্থন মূলত কূটনৈতিক ও প্রতীকী। বর্তমানে কৌশলগত বিষয়ে রাশিয়া বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় লড়াই করছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। তাই রাশিয়া ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তারা সরাসরি কোনো বড় ধরনের দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার ইসেসি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ভ্লাদিমির রুভিনস্কির মতে, মস্কো মাদুরো সরকারকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিলেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় রাশিয়ার প্রকৃত প্রভাব বেশ সীমিত। রাশিয়া মূলত ভেনেজুয়েলাকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে পালটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দিতে পারে। মূলত রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নীতির বিপরীতে লাতিন আমেরিকাকে নিজেদের প্রভাববলয় হিসেবে তুলে ধরাই মস্কোর মূল উদ্দেশ্য। রুভিনস্কি মনে করেন, মস্কো ভেনেজুয়েলাকে এমন কোনো ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে না, যেখানে তারা অনেক বেশি ব্যয়বহুল কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে।
মস্কোর এইচএসই ইউনিভার্সিটির গবেষক একেতেরিনা কোসেভিচ এই প্রসঙ্গের আরেকটি ভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তার মতে, রাশিয়ার এই সংশ্লিষ্টতা আদর্শিক বা সামরিক হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বললেও তাদের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং সরকার পরিবর্তনের চেষ্টার বিরোধিতা করা। রাশিয়ার দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে তারা মূলত সার্বভৌমত্বের নীতিকে সমুন্নত রাখতে চায়।
দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০০ সালের গোড়ার দিকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সময় থেকে রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করে। তবে বর্তমান সংকটে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা দিলেও রাশিয়ার সরাসরি সামরিক ভূমিকার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে রাশিয়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এর তীব্র নিন্দা জানাবে। সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে মস্কো মূলত জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরই গুরুত্ব দেবে।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তার মধ্যস্থতার চেষ্টার প্রেক্ষাপটে মস্কো-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতিমধ্যে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল দখল এবং দেশটির ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার মতো কঠোর শর্তগুলো পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই শর্তগুলো প্রত্যাখান করেছেন। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা সংকট সরাসরি ইউক্রেন আলোচনার সাথে যুক্ত না থাকলেও এটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভেনেজুয়েলায় যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ইউক্রেন ইস্যুতে চলমান আলোচনার পরিবেশকে পরোক্ষভাবে আরও জটিল করে তুলবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: আরটি
