‘ভেবেছিলাম আজই মারা যাব’, ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীকে বোনের আর্তনাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দুই ঘণ্টার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক প্রবাসী। কারাকাসে থাকা তার বোন ও মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে তাদের বেঁচে থাকা নিয়েই তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় ওই প্রবাসীর বোন ভেরোনিকা হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। বার্তায় তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, বাড়িটি ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠেছে এবং এখনো কাঁপছে। এই বার্তার পরই আকস্মিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী দুই ঘণ্টা ধরে ভেরোনিকা কিংবা তার সঙ্গে থাকা মায়ের ফোনে বারবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কিছুক্ষণ পর কারাকাসের সাংবাদিকদের একটি চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে ওই প্রবাসী জানতে পারেন যে সেখানে বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরই মধ্যে এক বন্ধু তাকে লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ক্লিপ পাঠান। ভিডিওটি দেখামাত্রই তার উদ্বেগ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়, কারণ ধসে পড়া ভবনটি তার মা ও বোনের অবস্থানস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত ছিল।
এলাকাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির একের পর এক খবরে যখন পরিস্থিতি ক্রমেই ওলটপালট হচ্ছিল, তার ঠিক দুই ঘণ্টা পর ভেরোনিকা ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পান। ফোনে লাইনে আসতেই ভেরোনিকা আকুল হয়ে বলেন, ‘আপু, আমি ভেবেছিলাম আমরা আজই মারা যাব।’ কথাটি বলেই সংযোগটি কেটে যায়। ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে তাদের নিজেদের বাড়িটি এখনো বসবাসের উপযোগী আছে কি না, তা দেখতে আগামীকালই সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে ভেরোনিকার।
সূত্র: বিবিসি
