মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাসগুলোতে কূটনীতিকদের ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাসে কূটনীতিকদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগে ও যুদ্ধ চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দ্য টাইমসের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই কর্মীদের ফেরানোর কাজ শুরু হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে জড়াবে না, এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার আগে ও পরে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার জেরে কর্মীদের সরানো হয়েছিল।

নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ওমান, ইরাক ও কুয়েত—এই আটটি দেশে কর্মীসংখ্যা বাড়ানো হবে। এর মধ্যে প্রথমে লেবাননের বৈরুত দূতাবাসে কর্মীরা ফিরবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েল, জর্ডান ও ওমানে পুরো কর্মীসংখ্যা ফিরবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ৭৫ শতাংশ কর্মী রাখা হবে। তবে উপসাগরীয় ছয়টি দেশ ও লেবাননে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার বিধিনিষেধ থাকছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আমর বিশ্বজুড়ে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করি। সর্বশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিশনে আমাদের কর্মী মোতায়েনের অবস্থান সমন্বয় করছি, যাতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেওয়া অব্যাহত রাখতে পারি।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যান শাপিরো বলেন, যেসব মিশন থেকে আংশিকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, প্রশাসন মনে করছে যুদ্ধের অবসান ঘটছে।

তবে আরেক সাবেক কর্মকর্তা জন আর. বাস বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থেকে বোঝা যায়, সরকার এখনও মনে করছে সেখানে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এতে বোঝা যায়, ৩০, ৬০ বা ৯০ দিন আগের তুলনায় হুমকি কমেছে, তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ঝুঁকি এখনও বেশি।

যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আলোচনা স্থবির থাকলেও কর্মী ফেরানোর কাজ চলবে। তবে সাবেক কর্মকর্তা রবার্ট ড্যানিন সতর্ক করেছেন, দূতাবাসের কর্মীদের ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে তারা একেবারে বিরত থাকবে। তিনি বলেন, তারা একবার যা করেছে, আবারও তা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights