মধ্যপ্রাচ্যে কয়টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে?

অনলাইন ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়টি সামরিক ঘাঁটি আছে এবং সেগুলোতে সামরিক উপস্থিতি কেমন, তা আলোচনায় উঠে এসেছে।

রয়টার্স, আল-জাজিরা এবং সেন্টকম- এর তথ্যানুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রায় ১৯টি স্থানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

কাতারে রয়েছে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি। এটি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি। এখানে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য অবস্থান করে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ফরওয়ার্ড সদরদফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এখানে একটি নতুন সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সেল খোলা হয়েছে।

বাহরাইনে রয়েছে ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি। এখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতর অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগরে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রায় ৯ হাজার সৈন্য নিয়োজিত।

কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্যাম্প আরিফজান। এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর লজিস্টিক এবং অপারেশনাল হাব। অন্যটি আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি। এটি ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটি। আরও আছে ক্যাম্প বুয়েহরিং। ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন হওয়া সেনাদের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয় এটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি। এখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৮০তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং মোতায়েন থাকে। ড্রোন অপারেশন এবং গোয়েন্দা নজরদারির জন্য এটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। আরও আছে জেবেল আলী পোর্ট। যদিও এটি কোনও স্থায়ী ঘাঁটি নয়, তবে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

ইরাকে আছে আইন আল-আসাদ নামের ঘাঁটি। এটি পশ্চিম ইরাকের আনবার প্রদেশে অবস্থিত। ইরবিল বিমান ঘাঁটিটি কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত। বর্তমানে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে।

সৌদি আরবে রয়েছে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি। এটি রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং থাড মোতায়েন রয়েছে। ২০২৪-২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, এখানে দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

জর্ডানে আছে মুয়াফফাক আল-সালতি বিমান ঘাঁটি। আজরাক অঞ্চলে অবস্থিত। এটি আইএসবিরোধী অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

এছাড়া ‘টাওয়ার ২২’ নামক একটি ছোট লজিস্টিক ঘাঁটিও জর্ডানে অবস্থিত।

সিরিয়ায় আমেরিকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বড় ঘাঁটি না থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৯০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে আল-তানফ গ্যারিসন অন্যতম। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights