মধ্যপ্রাচ্যে ২০ যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ’ সামরিক বিমান মোতায়েন আমেরিকার

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনায় আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দিচ্ছি। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব। আগামী রাতেও হামলা হবে। তার পরের রাতেও হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হবে। এরপর সেতুগুলোতে হামলা হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব। সব সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।”

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়… তাদের চুক্তি করাই ভালো। নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “আমি আগে সেখানে (হরমুজ প্রণালী) একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায়, যা আমার কাছে আরও ভালো মনে হয়েছে। আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। না হলে অন্যরাও একই কাজ শুরু করবে।”

ট্রাম্পের ভাষায়, “এই লোকদের সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন। আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি। আমরা সেটাই করেছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “দুই দিন আগে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা তা ভেঙে দিয়েছে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

মূলত সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights