মধ্যপ্রাচ্য এখন জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি: ক্রেমলিন

যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের ইরানের ওপর চালানো আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই সংঘাতের ‘বিপজ্জনক’ পরিণতি সম্পর্কে মস্কো আগেই সতর্ক করেছিল।

বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আক্ষরিক অর্থেই ‘আগুন জ্বলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন পেসকভ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে চরম হুমকি দেওয়ার পর সোমবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন পেসকভ।

সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, যার ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ইরানকে এই নৌপথ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রণালীটি উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে তেহরানের দাবি, তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেলবাহী জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ রেখেছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর বার্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পেসকভ সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বর্তমান পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

পেসকভ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনের ফলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি অনেক বেড়ে গেছে এবং পুরো অঞ্চল এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা ও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে, সেটিও রাশিয়ার পূর্বানুমানেরই অংশ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত এক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেমের হামলার বিপরীতে ইরানও ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। একই সময়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান এবং ইরাকি ও ইয়েমেনি যোদ্ধাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এদিকে ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসার খবর অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার মতে, বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই নেওয়া ভুল পদক্ষেপগুলোই দায়ী।

সূত্র: আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights