মন্ত্রণালয়ের বদনাম ঘোচাতে চাই ভূমিমন্ত্রী
ওয়াজেদ হীরা
ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়ে কোনো দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। মন্ত্রণালয় ঘুষ, দুর্নীতি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে থাকবে। গত ১৭ বছর এ মন্ত্রণালয়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী এ মন্ত্রণালয়কে বিতর্কিত করেছেন। মন্ত্রণালয় ঘিরে যে অতীত বদনাম রয়েছে তা ঘোচাতে চাই। গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
ভূমি নিয়ে দুর্ভোগ লাগব ও ভূমি ব্যবস্থাপনা কেমন হবে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা জবাবদিহি এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে। আমাদের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল একজন আইনজ্ঞ মানুষ। সচিবসহ আমরা একটা টিম হিসেবে কাজ করছি। মন্ত্রণালয়ে একটা চ্যালেঞ্জ সব সময়ই থাকে, তবে সবাইকে নিয়ে সুন্দর কাজ করতে চাই। মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় এ মন্ত্রণালয়ের যিনি মন্ত্রী (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী) ছিলেন তিনি বাংলাদেশের একজন বড় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি। লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে শত শত বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট আছে তার। এটা তো অসম্ভব! এটা বিশ্বের বড় কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের আছে কি না সন্দেহ আছে। এসব অতীতের বদনামের কারণে জনগণের মধ্যে এ মন্ত্রণালয় নিয়ে একটা ঘৃণা আছে, সেটি দূর করতে চাই। সততা দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অতীতের বদনাম ঘোচাতে চাই। ভূমি নিয়ে কারও কোনো দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। আমরা এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছি। মন্ত্রী বলেন, অতীত দুর্নীতির কারণে এ মন্ত্রণালয় একটা বিব্রতকর অবস্থায় আছে। এ মুহূর্তে এই মন্ত্রণালয়ের অতীতের বিষয়গুলো তদন্ত করতে ওই সময়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে চিঠি দেব মন্ত্রণালয় থেকে। যাতে দুদক সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। আমরা নিজেরা তদন্ত করছি জড়িত কেউ যদি মন্ত্রণালয়ে থাকে তাহলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।
নাগরিক সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমিসংক্রান্ত সেবা দিতে নাগরিকদের সুবিধার জন্য কল সেন্টার আছে। আমি কল সেন্টার পরিদর্শন করেছি। তবে কল সেন্টারের ব্যাপক প্রচার দরকার, যাতে প্রান্তিক মানুষ ভূমিসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। কল সেন্টারে সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। এটাকে ঢাকার বাইরে জেলায় সমস্যা সমাধানে কীভাবে একই ধরনের সেন্টার করা যায় সেটিও বলেছি। সরকারের অনেক পতিত জমি বেদখল হচ্ছে, সরকারি দলের লোকই বেশি দখলে যুক্ত থাকে। দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ থাকবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পর অনেক বিষয় জানছি এখনো। তবে এখানে কোনো জমি অন্যায়ভাবে দখল করার সুযোগ নেই। কেউ অবৈধ দখল করে থাকলে আমরা উদ্ধারের উদ্যোগ নেব। কোনো অনিয়ম মন্ত্রণালয় থেকে মানা হবে না। যারা দখল করে তারা দখলবাজ, তাদের কোনো দলীয় পরিচয় হতে পারে না। আমরা এসব নিয়ে শক্ত অবস্থানে আছি, থাকব। প্রধানমন্ত্রীর ভূমি নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয় খুবই সংযুক্ত। কারণ সবকিছুতেই ভূমির প্রয়োজন। আমাদের সরকার খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছে, কৃষক কার্ড দিতে যাচ্ছে। এ কৃষকদের সম্পর্ক ভূমির সঙ্গে। খাল খনন কর্মসূচিতেও কিন্তু ভূমির বিষয় জড়িত। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বৈঠকে আমাদের স্বচ্ছতা, দক্ষতার সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সবকিছুই আইনের মধ্যে থেকে নির্ণয় করার কথা বলেছেন। যে ভালো তাকে পুরস্কৃত, যে খারাপ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। আল্লাহ যতটুকু সুযোগ দিয়েছেন আমরা জনগণের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। কাজের ক্ষেত্রে প্রত্যেকে আমরা সচল। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী। ভূমি খাতের অভিযোগ কমিয়ে আনা এসিল্যান্ড অফিসগুলোতে মানুষের যেন দুর্ভোগ না থাকে, মানুষ সেবাটা দ্রুত পায় সেসব উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।
