মন্দা-মূল্যস্ফীতির জেরে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যমাত্রা বাইডেনের

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির জেরে আগামী এক দশকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ভারসম্যপূর্ণ বাজেটের দাবি উঠলেও পরিকল্পনা প্রণীত হয়নি। বাইডেনের বাজেটে উদ্দেশ্য যথেষ্ট স্পষ্ট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শুল্ক পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে আগামী ১০ বছরের ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি পূরণ করা হবে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব কারিন জ্যঁ পিয়েরে দাবি করেন, পরিকল্পনাটি সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মার্কিন জনগণ প্রমাণ করবে, তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা। স্বাস্থ্য খাতে যেসব ব্যক্তি বছরে ৪ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন, তাদের ওপর বিশেষ শুল্ক ধার্য করা হবে।

আগামী ১০ বছরে ওষুধ ও ফার্মেসি খাত থেকে এভাবে ১৬ হাজার কোটি ডলার ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া বেতার খাত থেকে ৫ হাজার কোটি ও বিভিন্ন ইন্সুরেন্সে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি ডলার কমিয়ে আনা হবে। একই সময়ে কমিয়ে আনা হবে চুরি ও বেকারত্বের ইন্সুরেন্স নিয়ে প্রতারণা করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাত্রা। তেল ও গ্যাস খাতে ভর্তুকি কমিয়ে ঘাটতি হ্রাস করা হবে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে আবাসন খাত থেকে কমিয়ে আনা হবে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। মার্কিন অর্থনীতি মন্দাবস্থা পার করছে। অর্থনীতিকে সচল রাখতে জরুরি কোনও পদক্ষেপ নিতে তৎপর বাইডেন প্রশাসন। তবে প্রস্তাব সিনেটে পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যেই সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা মিচ ম্যাককনেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এ প্রস্তাব আলোর মুখ দেখবে না’।

এদিকে পিডব্লিউসির নির্বাহী রোহিত কুমার বাইডেনের পরিকল্পনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। যদি বাইডেন দ্বিতীয় মেয়াদে বিজয়ী হয়, তাহলে ২০২৫ সালে এটা আলোচনার অন্যতম বিষয়ে পরিণত হতে পারে। বাইডেনের পরিকল্পনায় বছরে ৪ লাখ ডলারের বেশি উপার্জনকারীদের জন্য ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ হারে শুল্ক ধার্য করা হবে। করপোরেট ট্যাক্স বাড়ানো হবে ২৮ শতাংশ। বিদেশে কর্মরত মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় শুল্ক বাড়ানো হবে ১০ দশমিক ৫ থেকে ২১ শতাংশে। ধনাঢ্যদের ওপর শুল্ক ধার্য করাকেই ঘাটতি পূরণের প্রধান অনুঘটক মনে করছে বাইডেন প্রশাসন। সোমবারের বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮০ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছে। তাদের অনেকেই তুলনামূলক কম সম্পদশালীর চেয়ে কম ট্যাক্স দেন। দেশের ভালোর জন্য তারা আরও বেশি দিতে পারবে।” সূত্র: রয়টার্স, সিএনবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights