মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্তে যুগান্তকারী পরীক্ষা, ৮ সপ্তাহের বদলে ফল মিলবে মাত্র ২ ঘণ্টায়
অনলাইন ডেস্ক
মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্তে নতুন একটি দ্রুতগতির পরীক্ষা চালু করেছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস)। এর মাধ্যমে রোগীর অস্ত্রোপচার চলাকালেই টিউমারের ধরন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়ে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, সেখানে নতুন পরীক্ষায় ফল পাওয়া যাবে প্রায় দুই ঘণ্টায়।
ইংল্যান্ডের এনএইচএস জানিয়েছে, পরীক্ষাটি ইতিমধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং দেশটির পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। পরে আরও কয়েকটি কেন্দ্রে এটি চালু করা হবে।
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেন টিউমার রিসার্চ সেন্টার অব এক্সেলেন্সের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাটি তৈরি করেছেন। এটি মূলত একটি জিনগত পরীক্ষা। টিউমার থেকে নেওয়া ছোট টিস্যুর নমুনার জিনগত সংকেত বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টিউমারের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
এনএইচএসের মেডিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্কি সোর্ডস পরীক্ষাটিকে রোগীদের জন্য ‘বিশাল অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্তের পদ্ধতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। দ্রুত রোগ নির্ণয়ের ফলে রোগীরা আগেই চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কিছু রোগী দ্রুত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।
নটিংহাম ইউনিভার্সিটি হসপিটালস এনএইচএস ট্রাস্টের নিউরোসার্জন স্টুয়ার্ট স্মিথ বলেন, অস্ত্রোপচারের সময়ই টিউমার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, দ্রুত জিনগত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের মূল্যবান অপেক্ষার সময় কমানো সম্ভব হবে।
প্রচলিত পদ্ধতিতে মাইক্রোস্কোপের নিচে টিউমারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নমুনা পাঠানো হয় একটি জিনগত সংকেত বিশ্লেষণ যন্ত্রে। অক্সফোর্ড ন্যানোপোর তৈরি জুতার বাক্সের আকারের এই যন্ত্রে ডিএনএর অণু একটি অতি ক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর মাধ্যমে টিউমারের নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়।
যুক্তরাজ্যে শিশু ও ৪০ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ প্রাথমিক মস্তিষ্কের টিউমার। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করার ক্ষেত্রে নতুন পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রথম ধাপে নটিংহাম ইউনিভার্সিটি হসপিটালস, ইউনিভার্সিটি হসপিটালস বার্মিংহাম, গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল, কিংস কলেজ হাসপাতাল এবং নিউক্যাসল হসপিটালসের বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষাটি চালানো হবে।
পরবর্তী ধাপে ব্রিস্টল, অক্সফোর্ড, লিডস ও ম্যানচেস্টারের হাসপাতালেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
