মহানবী (সা.)-এর মায়ের জীবনকথা

মুফতি নূরুল আলম

আমেনা বিনতে ওহাব মহানবী (সা.)-এর সম্মানিত মা। তাঁর পিতার নাম ওহাব ইবনে আবদে মানাফ। তাঁর বংশধারা হলো—আমেনা বিনতে ওহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব বিন মুররা। কিলাব পর্যন্ত গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বংশের সঙ্গে মিলে যায়। বিয়ের আগে তাঁর জীবনযাপন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।

বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মা আমেনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে গর্ভে ধারণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) পূর্ণ ৯ মাস তাঁর মা আমেনার গর্ভে ছিলেন। কিন্তু অন্য নারীরা সাধারণত ব্যথা, বমি ইত্যাদি যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হন, তিনি এগুলোর কোনো কিছুরই অভিযোগ করেননি।

মা আমেনা গর্ভবতী থাকা অবস্থায়ই তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব মারা যান। এ কারণে তিনি গভীরভাবে শোকাহত হন। নবীজি (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার সময় পাঁচটি উট, জমিনের কিছু অংশ, একজন দাসী, যার নাম উম্মে আইমান ইত্যাদি ছাড়া কোনো কিছু রেখে যাননি।
হস্তি বাহিনীর ঘটনার ৫০ বছর পর (প্রসিদ্ধ মতে) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার মা আমেনা এই বরকতময় সন্তান প্রসব করেন।

কিন্তু হাদিসবিশারদ, তাফসিরবিদ ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, মহানবী (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন। সাইয়েদা আমেনাকে স্বপ্নযোগে যে সংবাদ দেওয়া হয়েছিল তা তিনি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি দেখলেন, নবজাতক মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর হাত ও হাঁটুতে ভর করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী আঙুল দিয়ে তাসবিহ পাঠ করার মতো ইশারা করছেন। মা আমেনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে পুত্রসন্তান প্রসবের সংবাদ পাঠালেন।

দাদা আবদুল মুত্তালিব নাতির জন্মের সংবাদ পেয়ে দ্রুত চলে এলেন। অতঃপর আমেনা ‘তাঁর গর্ভকালীন স্বপ্ন ও মুহাম্মাদ নাম রাখার নির্দেশ’ ইত্যাদি তাঁর শ্বশুরের কাছে বললেন।

দাদা আবদুল মুত্তালিব শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে কাবা চত্বরে চলে গেলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে আল্লাহর কাছে দোয়া ও শুকরিয়া আদায় করলেন এবং শিশুর নাম রাখলেন মুহাম্মাদ (সা.)। লোকেরা তাঁকে এই নাম রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, যেন আসমানে আল্লাহ তাআলা এবং জমিনে সব মানুষ তার প্রশংসা করুক।’ আর মা আমেনাই মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বপ্রথম দুধ পান করান। তিনি তাঁকে সাত দিন পর্যন্ত স্তন্যদান করেন। অতঃপর হালিমা সাদিয়া (রা.) শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে নিজ গোত্রে ফিরে যান। এখানেই রাসুল (সা.)-এর বক্ষবিদারণের ঘটনা ঘটে। সে ঘটনার পর হালিমা সাদিয়া (রা.) নবী (সা.)-কে মক্কায় মা আমেনার কাছে অর্পণ করেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত নবীজি (সা.) মা আমেনা ও তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights