মহিষের খামারে স্বাবলম্বী অনার্স পাস আশরাফুল
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর
আর্থ-সামাজিক নিশ্চয়তার জন্য দেশের বেশির ভাগ শিক্ষিত যুবক-যুবতীর মতো চাকরির পেছনে ছোটেননি দিনাজপুরের অনার্স পাস যুবক আশরাফুল ইসলাম। বরং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষ করে ইউটিউবের ভিডিও দেখে মহিষ পালন করে আজ সবার কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠছেন তিনি। এখন তিনি দেশের অনেক হতাশ ও বেকার যুবকের কাছে আশার আলো। জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউপির দক্ষিণ পলাশবাড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম এখন এলাকার তরুণদের কাছে অনুকরণীয়। আশরাফুল গত চার বছর আগে গরু পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন রোগবালাই ও গোখাদ্যের দাম বেশি থাকায় প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়েন। পরে ইউটিউব দেখে মহিষ পালন করে সফলতার দেখা পান। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। প্রথমে তিনি দুটি মহিষ দিয়ে খামার শুরু করেন। এখন তার খামারে বড় বিভিন্ন জাতের আটটি মহিষ রয়েছে। প্রতিটি মহিষের মূল্য আকারভেদে ২ লাখ টাকা থেকে আড়াই লাখ টাকা।
বর্তমানে তার খামারে সব মিলিয়ে ২০ লাখ টাকা মূল্যের মহিষ আছে। খামার থেকে তিনি বছর শেষে ৮ লাখ টাকার মতো মুনাফা পান। শুধু মহিষ বিক্রি নয়, মহিষের বর্জ্য ও দুধ বিক্রি করেও আয় হয় তার। এ ব্যাপারে খামারি আশরাফুল ইসলাম বলেন, মহিষ পালন করে প্রতিবছর প্রায় ৮ লাখ টাকা আয় হয়। মহিষগুলো উত্তরবঙ্গের কেনাবেচার সবচেয়ে বড় হাট ঐতিহ্যবাহী ঢেমঢেমিয়া কালি মেলায় কেনাবেচা করি। এভাবে বছর শেষে প্রতিটি মহিষে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাভ হয়।
তবে মহিষ পালনে লাভের পাশাপাশি এগুলোর মোটাতাজাকরণে খড়, ভূসি, চপর, ওষুধসহ অন্যান্য খাবার দিতে হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য খাবার খরচ কমাতে ব্যতিক্রমী পথ অবলম্বন করেছেন তিনি। মৌসুমে ভুট্টা গাছের ডগা খড় কাটা মেশিনে কেটে সংরক্ষণ করে রাখেন। খড়, সবুজ ঘাস, ভূসির পাশাপাশি সেগুলো মহিষকে খাওয়ান। এতে মহিষের খাদ্যের খরচ কমে যায়। আবার খামার থেকে মহিষের বর্জ্য জৈব সার হয়। সেটি আবার কৃষিজমিতে দিয়ে ফসল ফলান। পাশাপাশি বছরে মহিষের বর্জ্য বিক্রি করে ১ লাখ টাকা এবং মহিষের দুধ বিক্রি করেও আয় হয়। আশরাফুলকে দেখে এলাকার অনেক যুবক মহিষ পালন করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানা যায়।
মহিষের খামার করে ব্যবসা কেমন- এমন প্রশ্নে বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওসমান গনি বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলার ৯৫টি খামারে ১৩ হাজার ১১টি মহিষ আছে। বর্তমানে মহিষ পালনে খামারিরা লাভবান হচ্ছেন। মহিষ আকারে বড় হওয়ায় মাংসের ও দুধের পরিমাণ বেশি হয়। মহিষের মাধ্যমে ভোক্তারা যাতে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারেন এ লক্ষ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
