মাঝমাঠের ভুলে যেভাবে ম্যাচ হাতছাড়া করল ফ্রান্স
অনলাইন ডেস্ক
ডালাসের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিদায়ের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের আঙুল এখন কোচ দিদিয়ের দেশম এবং ফরাসি মাঝমাঠের দিকে। পুরো টুর্নামেন্টে যে ডিফেন্স আর মিডফিল্ডের ওপর ভর করে ফ্রান্স এতদূর এসেছিল, আজ স্পেনের নিখুঁত পাসিং জাদুর সামনে তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। মাঝমাঠের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত আর বলের দখল ধরে রাখতে না পারার চরম খেসারত দিয়েই ২-০ গোলে ম্যাচ হাতছাড়া করল ফরাসিরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই স্পেনের রদ্রি ও ফ্যাবিয়ান রুইজের কাছে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল ফ্রান্স। তবে বড় বিপর্যয়টি আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোচের এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তে। কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওকে তুলে নিয়ে মানু কোনেকে মাঠে নামান দেশম। এই পরিবর্তনের পর ফরাসি মাঝমাঠের যেটুকু প্রতিরোধ ছিল, তাও পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। যার সুযোগ নিয়ে ৫৪ মিনিটে পেড্রো পোরো দুর্দান্ত গোল করে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। রদ্রি যখন একাই মাঠের সর্বত্র রাজত্ব করছিলেন, ফরাসি মিডফিল্ড তখন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে ডেম্বেলেদের দিকে পাসিং লাইনগুলো তৈরি করতেই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের শেষ আধঘণ্টায় ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ করে দিতে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস প্রদর্শন করেন। তিনি একে একে পেদ্রি, মিকেল মেরিনোদের মাঠে নামিয়ে স্পেনের প্রায় ৮ জন মিডফিল্ডারকে পিচে জড়ো করেন। স্প্যানিশদের এই ‘ডেথ বাই আ থাউজেন্ড কাটস’ বা হাজার পাসের বুহ্যের সামনে ফরাসি খেলোয়াড়রা বলের পজিশনই পাচ্ছিলেন না। গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশ সমর্থকরা প্রতিটি পাসে ‘ওলে’ ধ্বনি তুলছিল, ফ্রান্সের মাঝমাঠ তখন কেবলই বলের পেছনে ছুটে ক্লান্ত হয়েছে। মাঝমাঠের এই নজিরবিহীন ভরাডুবির কারণেই মূলত কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো গত আসরের রানার্সআপদের।
