মাদুরোকে ধরতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের রোমহর্ষক অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘ক্লদ’ ব্যবহার করেছে। শুক্রবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘পালানটির টেকনোলজিস’-এর সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই এআই মডেলটি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। পালানটির-এর প্ল্যাটফর্মগুলো সাধারণত মার্কিন প্রতিরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে থাকে। মাদুরোকে গ্রেফতারে পরিচালিত অভিযানের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ ছিল অন্যতম চাবিকাঠি।

গত ৩ জানুয়ারি রাতে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের ‘ডেল্টা টিম’ ভেনেজুয়েলায় এক অতর্কিত ও দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে। পরে তাকে সরাসরি নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি ম্যানহাটনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

একই অভিযানে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। তিনিও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন বর্তমানে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগুলো ক্লাসিফাইড বা গোপন নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব নীতিমালায় কোনো ধরনের সহিংসতা, অস্ত্র তৈরি বা নজরদারি কাজে ‘ক্লদ’ ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গোপন নেটওয়ার্কে এই প্রযুক্তির উপস্থিতি নৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নতুন দফার ফান্ডিংয়ে অ্যানথ্রোপিকের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮০ বিলিয়ন ডলারে।

এদিকে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা অভিযানে ব্যবহৃত আরও একটি গোপন অস্ত্রের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি একে ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে অভিহিত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এই বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমেই অভিযানের সময় রাশিয়া ও চীনের তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক সাইবার প্রযুক্তির এই ব্যবহার আগামী দিনের সামরিক কৌশলে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights