মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট কেন কিনলো না ভারত?

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও সেই পথ থেকে সরে এসেছে ভারত। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হলেও নতুন দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বর্তমানে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিষয়টি কেবল প্রাথমিক প্রস্তাবের পর্যায়েই ছিল এবং এটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কেনাকাটার প্রক্রিয়া বা আলোচনা শুরু হয়নি।

ভারত দাবি করছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির বাস্তবায়নে দেশীয় প্রতিরক্ষাশিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার প্রধান কারণ। ভারত বর্তমানে তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি প্রকল্প বিশেষ করে ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ এবং ‘তেজস মার্ক-২’ কর্মসূচির বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে চাইছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা হিন্দুস্থান অ্যারোনেটিক্স লিমিটেড-এর কাছ থেকে প্রায় ৬২৩.৭০ বিলিয়ন রূপি ব্যয়ে দেশীয় যুদ্ধবিমান কেনার যে বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দেশের অ্যারোস্পেস খাতকে স্বাবলম্বী করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই বাস্তব প্রতিফলন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এফ-৩৫ এর মতো বিদেশি ফাইটার জেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং মার্কিন সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমেরিকান এই বিমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল সফটওয়্যার সোর্স কোড এবং ডেটা-শেয়ারিং ব্যবস্থার ওপর ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য ভারতের পরিচালনগত সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করত। তাছাড়া, এফ-৩৫ কেনা এবং তা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচ ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় চাপ সৃষ্টি করত, যা দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারত।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশলগত দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার মতো দীর্ঘদিনের অংশীদার দেশগুলো ভারতে যৌথভাবে প্রযুক্তির হস্তান্তর ও স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিমান তৈরির বিষয়ে নমনীয়তা দেখালেও আমেরিকার সামরিক চুক্তিতে শর্তাবলী থাকে অনেক কঠিন। ভারতের বিরোধী দলগুলোও মার্কিন এফ-৩৫ বিমানের অতিরিক্ত ব্যয়ভার নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। ফলে বিলিয়ন ডলার খরচ করে মার্কিন স্টিলথ জেট কেনার চেয়ে নিজস্ব তৈরি প্রযুক্তির শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হওয়াকেই কৌশলগতভাবে সঠিক পথ বলে মনে করছে নতুন দিল্লি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights