মার্কিন নজর এড়িয়ে কীভাবে চলছে ভেনেজুয়েলার গোপন তেলবহর
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভেনেজুয়েলার গোপন নৌবহরকে ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভেনেজুয়েলা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ভুতুড়ে বা ঘোস্ট নৌবহরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুতের দেশ ভেনেজুয়েলার সরকারি ব্যয়ের বড় অংশই নির্ভর করে তেল রপ্তানির আয়ের ওপর। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ায় দেশটির বৈধ তেল বাণিজ্য প্রায় থমকে যায়। ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার বিকল্প তেল রপ্তানি পথ গড়ে তোলে, যা পরিচিত হয় ঘোস্ট ফ্লিট বা ভুতুড়ে নৌবহর নামে।
ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম জানায়, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় থাকা বা দেশটির দিকে চলমান প্রায় ৮০টি জাহাজের মধ্যে ৩০টির বেশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ট্রাম্প এই জাহাজগুলো লক্ষ্য করে পূর্ণ নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।
২০১৯ সালে প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি অর্ধেকে নেমে আসে। তবে ছয় বছর পর আবার তা বেড়ে দৈনিক প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। যদিও এই অঙ্ক ১৯৯৮ সালের সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম, তবে রপ্তানি বৃদ্ধির অগ্রগতি দেখিয়েছে যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছে না।
রাশিয়া, ইরানও তেল রপ্তানি ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি পাঁচটি তেলবাহী জাহাজের একটি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে জড়িত। এই ঘোস্ট জাহাজগুলো ঘনঘন পতাকা ও নাম বদলায়, এআইএস সিগন্যাল বন্ধ রাখে অথবা স্ক্র্যাপ করা পুরোনো জাহাজের পরিচয় ব্যবহার করে, যেগুলোকে বলা হয় জম্বি শিপ।
অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করে রপ্তানির প্রকৃত উৎস গোপন রাখা হয়। এতে ভেনেজুয়েলার সাগরপথে তেল পাচারের এই শৃঙ্খল বহুজাতিক রূপ নিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নৌ উপস্থিতি, বিশেষ করে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে অভিযান বাড়ায় এই ঘোস্ট নৌবহর বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিবিসি, নিউজ টাইমস
