মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে যা যা করতে পারে ইরান
অনলাইন ডেস্ক
সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলার নির্দেশ দেন তবে তেহরানের পাল্টা ব্যবস্থা কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং সরাসরি ইসরায়েল এবং বিশ্বজুড়ে ইহুদি ধর্মাবলম্বী ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও হামলা চালাতে পারে।
আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, যুদ্ধে ইসরায়েল সরাসরি যুক্ত না থাকলেও ইরান তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের মূল লক্ষ্য হবে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোকে অচল করে দেওয়া। পাশাপাশি ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন তুলে নিতে বাধ্য হয়। শুধু স্থলভাগেই নয়, আরব সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরীগুলোকেও অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ও উন্নত নেভাল ট্যাকটিকস ব্যবহার করে টার্গেট করতে পারে ইরান।
এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন শহরে থাকা ইরানের স্লিপার সেলগুলো (গুপ্তঘাতক চক্র) সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন দেশের ইসরায়েলি দূতাবাস, কূটনৈতিক মিশন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চোরাগোপ্তা হামলার ছক কষছে।
সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি ইরান এক ভয়াবহ সাইবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার গ্রিড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসামরিক শাসনব্যবস্থায় ধস নামানোর চেষ্টা করতে পারে ইরানি হ্যাকাররা।
