মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সুবিধা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে (এমপিপি) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের অন্তত ১০ বছরের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রথম পাঁচ বছর ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের গাইডলাইন ও ট্যারিফ বিষয়ে গণশুনানিতে এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। গণশুনানিতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রথম পাঁচ বছর ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কমিয়ে ০.৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়।

সংগঠনটি বলেছে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ট্যারিফে সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা, সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা ও তাঁদের প্রতিনিধিরা, শিল্পকারখানার উদ্যোক্তারা এবং ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাবের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৬.৪৮ টাকা করার সুপারিশ : এদিকে গণশুনানিতে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বেসরকারি মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৬.৪৮ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সৌরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যাবে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির অনুসন্ধান ও হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩২৬ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কার্যকরী মূলধন বাবদ ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা যোগ করে মোট মূল্য ভিত্তি ধরা হয়েছে ৩৭০ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এই মূল্য ভিত্তির ওপর প্রস্তাবিত মুনাফার হার ধরা হয়েছে ৮.৯৬ শতাংশ। এতে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

জনবল, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয় বাবদ ১১ কোটি ২১ লাখ এবং অবচয় বাবদ ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট রাজস্ব প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। কমিটির হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট উৎপাদন হবে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দিন বা রাতেও সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এজন্য সৌরভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির মতে, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে দিনের বেলা উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বিএসআরইএ বলেছে, ডিআইএসকমের ত্রুটির কারণে ফিডিং ও ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন অকার্যকর হলে এমপিপি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও তা গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ করতে না পারলে ‘ডিমড জেনারেশন’-এর বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, শিল্প খাতে বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকারও শর্ত হয়ে উঠেছে। ২০৩০ সালের পর রপ্তানি পণ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণের তথ্য দিতে না পারলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অতীতের অনিয়ম ও অদক্ষতার দায় নতুন বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো উচিত নয়। বেসরকারি খাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কম দামে বিদ্যুৎ দিতে পারলে সেই সুযোগ তৈরি করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights