মাস্টারপ্ল্যান সাজাচ্ছে এনসিপি

তাওসিফ মাইমুন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো ফলের পর এবার স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে এগোচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বেশ আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে দলটি। উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বাছাই এখনো শুরু না হলেও দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীরা মাঠে সরব হতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে পাঁচ সিটি করপোরেশনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার দুই সিটিতে জয়ী হওয়া এনসিপির প্রধান লক্ষ্য।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াতের পক্ষ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে দুই দল আলাদা আলাদা প্রচারে নির্বাচনি মাঠে সরব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রচারে দেখা গেলেও রমজানজুড়ে দেশব্যাপী ইফতার কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন এনসিপির প্রার্থীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ সিটি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সিটির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। কিছু কিছু জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে প্রার্থীদের পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নিজেদের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্র করে তৃণমূলকে সংগঠিত করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি হবে। তাতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঈদের পর পরই রদবদল হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দলীয় প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তারাও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুত হচ্ছেন। এ ছাড়া তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে আমরা ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শিগগিরই ভালো ফলাফল আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও আমরা ভালো ফল করব। এর জন্য সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা মাঠে রয়েছি। ঈদের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে বেগবান করতে আন্দোলন ইস্যুতে শক্তিশালী করা হবে।

বাকি সাত সিটিতে প্রাথমিক তালিকায় যাদের নাম রয়েছে : বাকি সাত সিটি নির্বাচনের জন্য দলটির প্রস্তুতি রয়েছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছে সূত্র। তথ্যানুযায়ী, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম রংপুর সিটির প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা করেছে এনসিপি। এতে দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের নামও রয়েছে। ঢাকা সিটির পর গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলম, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক রংপুর সিটিতে সারজিস আলম, নারায়ণগঞ্জে দলটির জেলা সমন্বয়ক শওকত আলী, গাজীপুরে উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় মুখ্য যুগ্ম আহ্বায়ক আলী নাছের খান, খুলনায় দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক, বরিশালের জন্য বিবেচনাধীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আসাদ বিন রনি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আশিকিন আলম ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রাথমিক তালিকায় রয়েছেন।

জানতে চাইলে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাকি সিটি করপোরেশনে প্রার্থীদের নাম চলতি মাসেই ঘোষণা করব। যেসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে আমরা উপজেলা, পৌরসভা ও সিটিতে প্রার্থী খোঁজের প্রক্রিয়ায় রয়েছি। আশা করছি জাতীয় নির্বাচনে ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights