মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন নদীর পাড়ের সরকারি জায়গা দখল করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণ চললেও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না কেই। এতে সরকারি জায়গা দখল করে নদীর পাড়ে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের পাশে ফাঁকা জায়গায় নদীর পাড় ঘেঁষে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। এর আগে ওই এলাকায় থাকা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি উন্মুক্ত থাকায় শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মব্যস্ততা শেষে সেখানে গিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতেন। কিন্তু নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় সেই পরিবেশও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের কেউ কেউ নির্মাণকাজের সঙ্গে বাল্কহেড জাহাজ মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টতার কথা বললেও সমিতির পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এখানে আমাদের একটি ঘর ছিল। সরকার সেটি ভেঙে দেওয়ার পর আমরা অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিয়েছি। আমিও শুনেছি এখানে দোকান নির্মাণ হচ্ছে। কারা দোকান নির্মাণ করছে, তা আমরা জানি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘লঞ্চঘাটের নদীর পাড়ে আগেও স্থাপনা ছিল। সরকার সেগুলো ভেঙে দিয়েছে। এখন আবার এখানে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এটি স্থাপনা হয়ে গেলে দেখাদেখি আরও অনেকে নতুন করে জায়গা দখল করে স্থাপনা করবে। কিন্তু কে কী বলবে, কারও সাহস নেই।’
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘যেখানে স্থাপনা হচ্ছে, সেখানে আমাদেরও কিছু জায়গা পড়েছে। তবে জায়গাটি মূলত বিআইডব্লিউটিএর। আমরা লোক পাঠিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমি তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।’
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমি মাহাবুবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
