মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ে যে কৌশল মানতে হবে ইংল্যান্ডকে

অনলাইন ডেস্ক

মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ শুধু স্বাগতিক দল নয়, মেক্সিকো সিটির উচ্চতাও। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ মিটার (৭,২০০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে খেলতে নামার আগে পর্যাপ্ত সময় পায়নি থমাস টুখেলের দল। তাই এই ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল নয়, বরং ধৈর্যশীল ও রক্ষণভিত্তিক কৌশলই হতে পারে ইংল্যান্ডের সাফল্যের চাবিকাঠি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকো সিটির উচ্চতায় দ্রুতগতির ফুটবল খেলা অত্যন্ত কঠিন। সেখানে দৌড়ঝাঁপ বেশি করলে খেলোয়াড়দের শক্তি দ্রুত কমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড যদি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক প্রেসিং বা ওপরে উঠে খেলার চেষ্টা করে, তাহলে উল্টো মেক্সিকোর দ্রুতগতির উইঙ্গারদের সামনে বড় সমস্যায় পড়তে পারে।

বিশেষ করে আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর রেকর্ডও ভয়ঙ্কর। নিজেদের মাঠে ৮৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তারা মাত্র দুইবার হেরেছে। তার ওপর থাকবে হাজারো স্বাগতিক সমর্থকের সমর্থন এবং উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার স্বাভাবিক সুবিধা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুখেলের উচিত হবে ইংল্যান্ডকে নিচে নেমে রক্ষণ গুছিয়ে খেলানো বা ‘লো ব্লক’ কৌশল ব্যবহার করা। এতে মেক্সিকোর আক্রমণের জন্য জায়গা কমে যাবে এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে। অযথা দ্রুত খেলার বদলে থ্রো-ইন, ফ্রি-কিক কিংবা অন্যান্য বিরতিতে সময় নিয়ে ম্যাচের ছন্দ ধীর করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। সেবারও মেক্সিকোতে খেলতে গিয়ে গরম ও উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েছিল ইংল্যান্ড। সাবেক মিডফিল্ডার গ্লেন হডল তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, একবার সিঁড়ি দিয়ে লাগেজ তুলতেই তিনি ও সতীর্থ কেনি স্যানসম কয়েকবার থেমে শ্বাস নেন। পরে সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড নিজেদের কৌশল বদলে প্রেসিং কমিয়ে আরও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল।

বর্তমান দল নিয়েও একই ধরনের পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইংল্যান্ডের উচিত হবে রক্ষণকে সুশৃঙ্খল রাখা, সেট-পিসকে কাজে লাগানো এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়া। ডেকলান রাইসের কর্নার ও ফ্রি-কিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, আর হ্যারি কেইনের নিখুঁত পাস থেকে গতি কাজে লাগিয়ে আক্রমণে যেতে পারেন অ্যান্থনি গর্ডন।

এছাড়া মিডফিল্ডে বাড়তি শক্তি আনতে একজন উইঙ্গারের পরিবর্তে মরগান রজার্সকে খেলানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। রক্ষণে অভিজ্ঞতা বাড়াতে জন স্টোনসকে একাদশে ফেরানো এবং এজরি কনসাকে ডান প্রান্তে খেলানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির মতে, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা। বরং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, আবেগের পরিবর্তে কৌশলের লড়াইয়ে জেতা এবং ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পরিকল্পনা। যদি শুরুটা সামলে নেওয়া যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সামর্থ্যই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

সূত্র: গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights