মেঘনায় ধরা পড়ছে বড় পাঙ্গাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

বরিশালে মেঘনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। এতে দীর্ঘদিন পর স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে। মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি, কঠোর নজরদারি ও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযানের সুফল এখন মিলতে শুরু করেছে।

মেঘনা নদীর জেলে মান্দ্রা চর কুশরিয়া এলাকার বাসিন্দা নাগর খান বলেন, মেঘনা নদীতে এখন আর আগের মতো ইলিশ মাছ নেই। গত ১৫ দিন ধরে নদীতে মাছ শিকার করতে যাই না। বর্তমানে নদীতে জাল ফেললে পাঙ্গাস মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তাই রাত থেকে মাছ শিকারে যাবো।
ধুলখোলা বতুয়া গ্রামের জেলে মোতালেব বেপারী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীতে বিভিন্ন সাইজের মাছ ধরা পড়ছে। এখন আর খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না। প্রতিদিনই দুই একটি পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়ছে।
সদর উপজেলার চরমোনাই বাজারের মাছ বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, গত দুইদিন ধরে বাজারে পাঙ্গাস মাছ উঠছে। শনিবার প্রতিটি মাছ ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রবিবার এসে দাম বেড়েছে। এখন ৯২০ থেকে ৯৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, গত দুই বছরে মেঘনা নদী থেকে সব ধরনের অবৈধ বেহুন্দী জাল, পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই এবং সুতার তৈরি লাইন বরশি উচ্ছেদে আমরা সফল হয়েছি। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এরই ইতিবাচক ফল হিসেবে এখন নদীতে দেশীয় পাঙ্গাশের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত শীত মৌসুমে সীমিত পরিমাণে পাঙ্গাশ পাওয়া যায়। তবে এবার মৌসুমের বাইরেও বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাশ ধরা পড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে, পোনা নিধন ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে নদীর প্রাকৃতিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ জাল ও পোনা নিধনের বিরুদ্ধে মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights