মেসিই কি সর্বকালের সেরা, প্রশ্নবোধক চিহ্ন মুছে দেওয়ার পথে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

অনলাইন ডেস্ক

লিওনেল মেসিকে ঘিরে ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলার’ বিতর্ক বহু বছরের। তবে একের পর এক রেকর্ড, বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর সেই বিতর্কের পরিসর ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ২০০৬ বিশ্বকাপে কিশোর বয়সে আর্জেন্টিনা দলে অভিষেকের সময়ই তাকে দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ক্লাব ও জাতীয় দল দুই পর্যায়েই অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মেসিকে। ২০১৪ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।

তারপর হতাশা আরও বাড়ে পরবর্তী দুই কোপা আমেরিকায়। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুইবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। টানা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারার যন্ত্রণা মেসিকে এতটাই আঘাত করেছিল যে একবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

তবে সেখান থেকেই শুরু হয় তার প্রত্যাবর্তনের গল্প। লিওনেল স্কালোনির অধীনে নতুনভাবে গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনা দলে মেসি হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। ২০২১ সালে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও ছিলেন মেসি। এরপর ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ বিশ্বকাপে। সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হলেও মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় দেশটি। সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে মেসি জেতেন টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার।

অনেকের মতে, ওই বিশ্বকাপ জয়ের পরই পেলে ও ম্যারাডোনার সঙ্গে সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন মেসি। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি।

তবে সেখানেই থেমে থাকেননি মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে আবারও ফাইনালে তুলেছেন। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট প্রতিটি ধাপেই গোল ও অ্যাসিস্টে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পথে ভেঙেছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের একাধিক রেকর্ড।

সবচেয়ে বড় বিষয়, অধিনায়ক হিসেবে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়েছেন তিনি, যা ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রায় চার দশকের ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাওয়াও তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তাই ফুটবল বিশ্বে প্রশ্নটি এখনও থাকলেও, মেসির অর্জন ও প্রভাব দেখে অনেকেই মনে করছেন ‘মেসিই কি সর্বকালের সেরা?’ এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ইতোমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights