মে মাসেই ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। এর প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘জেপি মরগান’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হলে দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক নোটে এই সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনও ধরনের বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করে এবং বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয়।

জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরবরাহ সংকট ও মজুত কমে যাওয়ার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকজুড়ে (এপ্রিল থেকে জুন) তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে প্রণালি আংশিকভাবে চালু এবং মজুত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দাম কিছুটা কমতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, দাম কতটা বাড়বে এবং কতদিন ধরে উচ্চ অবস্থায় থাকবে-তার ওপর নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্য বজায় থাকলে জ্বালানির চাহিদা কমে যেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থির লেনদেনের মধ্যে তেলের দাম বাড়তে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights