মোস্ট ওয়ান্টেড ডনের সাথে ‘রিভলবার রানি’র বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক

হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো দিল্লি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ছিলো তাদের প্রথম লিটমাস্ট টেস্ট। তাতে না পাশ করলে মান-ইজ্জত থাকত না। কারণ এ দিন ছিল গ্যাংস্টারের বিয়ে! পাত্রীও ‘প্রাক্তন ডন।’ কাজেই পুলিশের সামনে নিরাপত্তা ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। তা তারা সসম্মানে উতরে গেছে। সন্দীপ ওরফে কালা জাঠেরির সঙ্গে এ দিন বিয়ে হলো অনুরাধা চৌধুরীর।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দিল্লির দ্বারকা এলাকার সন্তোষ গার্ডেন ব্যাঙ্কোয়েট হলে এই গ্যাংস্টার ও রিভলবার রানির বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ ব্যাঙ্কোয়েট হলের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা দিয়েছে। সন্দ্বীপের আইনজীবী ৫১ হাজার রুপি (প্রায় ৬৭ হাজার টাকা) ব্যয় করে এটি বুকিং দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সন্দ্বীপের কুখ্যাতি ও আগের অপরাধের কথা মাথায় রেখে পুলিশ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পরিকল্পনাও করে রেখেছিল।
উল্লেখ্য, মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী সন্দ্বীপকে ধরিয়ে দিতে একবার সাত লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয় সন্দ্বীপকে। বিয়ের জন্য মঙ্গলবার দিল্লির একটি আদালত তাকে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বিয়ের পর তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিহার। আজ, বুধবার আবার সে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাবে। ‘গৃহপ্রবেশ’ অনুষ্ঠান হবে হরিয়ানার সোনিপতে সন্দীপের বাড়িতে অর্থাৎ সে নতুন বউকে নিয়ে প্রবেশ করবে বাড়িতে।

২০২০ সালে হরিয়ানা পুলিশের কাছ থেকে কোর্টে যাওয়ার পথে পালিয়ে গিয়েছিল সন্দীপ। তার গোষ্ঠীর লোকজন গুলি চালিয়ে তাকে নিয়ে পালিয়েছিল। তাই এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি পুলিশ।

খুন-অপহরণ-ডাকাতি-তোলাবাজিতে অভিযুক্ত বর-কনের মেলবন্ধনের সাক্ষী নিকট আত্মীয় ও ২৫০ জন পুলিশকর্মী।

রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাবে রাজত্ব করা দুই গ্যাংস্টারের বিয়ের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল গোটা এলাকা। ঘটনাস্থলে ছিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, স্পেশাল স্টাফ এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ দল। বিয়ের আসরে আমন্ত্রিতদের দেওয়া হয়েছিল বারকোড ব্যান্ড। নিষিদ্ধ ছিল মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে ঢোকাও। ব্যাঙ্কোয়েটের কাছে অনুমতি ছাড়া কোনও গাড়িকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।

আগেভাগেই কালা জাঠেরির পরিবারের ১৫০ জন অতিথির নামের তালিকা ছিল পুলিশের কাছে। বিয়ের আসরে উপস্থিত ওয়েটার ও অন্য কর্মীদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল। ব্যাঙ্কোয়েটে ঢোকার মুখে ছিল মেটাল ডিটেক্টর। হাফ ডজনের বেশি সিসিটিভি-র নজরদারিও ছিল। ড্রোন চালিয়ে নজর রাখা হয়েছিল আকাশপথেও।

সন্দ্বীপের বউ ‘রিভলবার রানি’ অনুরাধা চৌধুরীও বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলার আসামি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights