যমুনার চরে সবুজের সমারোহ

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে যমুনায় জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেই বালুচরে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছে নদীভাঙা মানুষ। কৃষক ব্যস্ত চাষাবাদে। বালুতেই ফলাচ্ছে সোনার ফসল। মাঠজুড়ে এখন সবুজের হাতছানি। চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, আলুসহ নানান জাতের ফসল ও সবজি।

জেলার নদীবিধৌত উপজেলা গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, সদর ও নাগরপুরের বালুচরে পলি জমে উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। এবার বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরই চরের কৃষক ফসল আবাদে সময় দিচ্ছে। ভুট্টা, সরিষা, ধান, গম, চীনাবাদাম, মিষ্টিকুমড়া, আলু, মিষ্টি আলু, রসুন, পিঁয়াজ, কাউন, মসুর-খেসারি ডালসহ প্রায় সব ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ করছে। তারা স্বপ্ন দেখছে লাভবান হওয়ার। সার-কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা শঙ্কায় আছে কৃষক।

চরের নারী-পুরুষ সমানতালে মাঠ কাজ করে। বর্ষার ছয় মাস তাদের তেমন ব্যস্ততা থাকে না। বাকি ছয় মাস কাজ করে পুরো বছরের অর্থের জোগান ঠিক রাখে। এমনটাই জানা গেছে চরশুশুয়া, অর্জুনা, চরগোবিন্দসহ কয়েকটি চরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে।

চরশুশুয়া গ্রামের কৃষক কুদ্দুছ বলেন, ‘চরের প্রায় সবাই কৃষিকাজে জড়িত। চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। তারা সব ধরনের ফসল আবাদ করে। কম খরচে অধিক ফসল পাওয়া যায়। চরে বেশি চাষ হয় ভুট্টা।’

ছুরহাব মিয়া জানান, এবার তিনি ৩ বিঘায় ভুট্টা, ২ বিঘায় মাষকালাই ও ১৫ শতাংশে কালো জিরা চাষ করেছেন। শুধু কুদ্দুছ, ছুরহাবই নন, তাঁদের মতো চরতালতলা, চরশুশুয়া, বেহারির চর, জঙ্গিচর, চরসোহাগভাগা, চরকালীপুর, চরচন্দনি, চরবাসুদেবসহ প্রায় সব চরের মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষিকাজ করে চলে তাদের জীবনজীবিকা।

ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘চরাঞ্চল কিছু ফসলের জন্য বিশেষ উপযোগী। বাদাম, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, মরিচ ভালো জন্মে। চর প্লাবিত হয়ে পলি পড়ায় উর্বরতা বাড়ে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights