যুক্তরাজ্যে থাকা ভেনেজুয়েলার ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে দেশটির সরকার ও বিরোধী পক্ষ। শুক্রবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এর তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বর্ণের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে। তবে চুক্তি হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ওই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না।

বরং স্বর্ণের মজুত সরকারি ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। এর মধ্যে জুনে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণও থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই বিষয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার কোনো পক্ষ নয়। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের আদালত ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও জানিয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টের ওপর কার আইনি কর্তৃত্ব রয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে বলেও জানিয়েছে ব্যাংকটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় এই স্বর্ণ ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাধারণ কর্মঘণ্টার বাইরে হওয়ায় নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

এর আগে গত মাসে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, দেশটির ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ ভল্টে থাকা স্বর্ণের মজুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ মেট্রিক টন স্বর্ণ রয়েছে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বৈধতা স্বীকার না করার কারণে এই স্বর্ণ হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

স্বর্ণ হস্তান্তর নিয়ে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অস্বীকৃতির ঘটনা শুরু হয় ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মাদুরোর জয়কে কারচুপিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারসহ বেশ কয়েকটি দেশ তৎকালীন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন করেছিল। এরপর থেকেই দেশটির স্বর্ণের মজুত নিয়ে ব্রিটিশ আদালতে দীর্ঘ আইনি বিরোধ চলছে।

জানুয়ারিতে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে নেওয়া এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের পক্ষ থেকে রাজা চার্লসের কাছে স্বর্ণ হস্তান্তরের অনুরোধ জানানোর পরও তা হস্তান্তর করা হয়নি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ভেনেজুয়েলায় জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়—এমন গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গত আগস্টে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি বড় ধরনের তেল চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights