যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল ইরান, উল্টো তেহরানকে পাল্টা বিল পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
এবার ইরানের কাছেই বিশাল ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত পাঁচ মাসের যুদ্ধের পর ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে, ঠিক তখন উল্টো তেহরানের কাছে কয়েক দশকের হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিল দাবি করে বসলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার এই ‘মজার ধারণাটি’ তার বেশ পছন্দ হয়েছে। তাই এর জবাবে তিনি নিজেও এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনাগুলোতে ইরান কখনো এমন ক্ষতিপূরণের কথা বলেনি।
নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, জেনারেল কাসেম সোলেইমানির নেতৃত্বে রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমা এবং বিভিন্ন সংঘাতে নিহত ও গুরুতর আহত মার্কিন সেনাসহ হাজার হাজার মানুষের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনকি ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেন বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস কোল’-এ ভয়াবহ বোমা হামলায় ১৭ নাবিক নিহত এবং তিন ডজনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার দায়ও তিনি ইরানের ওপর চাপিয়েছেন। যদিও এফবিআই ওই হামলার জন্য আল-কায়দাকেই দায়ী করে আসছে।
ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কেবল মার্কিনীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, গত ৫০ বছরে বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে নিহত ইরানি বিক্ষোভকারী এবং গত পাঁচ মাসে প্রাণ হারানো ৫২ হাজার মানুষের পরিবারকেও এই অর্থ দিতে হবে। ভবিষ্যতের সব শান্তি আলোচনায় এই শর্তগুলো শক্তভাবে তুলে ধরতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর একদিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি সামরিক হামলা না বাড়িয়ে বরং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না তোলা, ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তারা ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলবে না। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
