যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ইরান, আলোচনায় ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে ইরান। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও নিজেদের অবস্থান থেকে কোনো ধরনের আপস না করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘নতুন কিছু প্রস্তাব’ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। তিনি তেহরান সফরের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় কাজ করছেন।
তবে আলোচনার চ্যানেল খোলা থাকলেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরানের আলোচক দল ‘সামান্যতম আপস, পিছু হটা কিংবা নমনীয়তা দেখাবে না’ এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে।
পরিষদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ইরানি জাতির স্বার্থ রক্ষায় আলোচক দল কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেবে না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল সাময়িকভাবে শুরু
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় ইরান হরমুজ প্রণালি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য খুলে দিলে অন্তত আটটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থাগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
মেরিটাইম ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, শনিবার ভোরে একটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকার, চারটি তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী জাহাজ, দুটি তেল ও রাসায়নিক পরিবহনকারী ট্যাংকার এবং একটি তেলজাত পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে, মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে (উপসাগর ত্যাগকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট) আরও কয়েকটি ট্যাংকার অবস্থান করছিল।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের বাহিনী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকে পড়ে। এতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যায়। বহু জাহাজের ক্যাপ্টেন হামলা বা নৌমাইনের আশঙ্কায় ওই অঞ্চল এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন।
