যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের (অ্যাসাইলাম) আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন নিয়ম জারি করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

নতুন এ বিধানের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ না করেই তাদের আবেদন সরাসরি অভিবাসন আদালতে পাঠানো যাবে।

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে দাবি মার্কিন সরকারের।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে ন্যায়বিচারের সুযোগ সংকুচিত হবে এবং ব্যাপক হারে আবেদন প্রত্যাখ্যান ও অভিবাসীদের বহিষ্কারের পথ সুগম হবে।

স্থানীয় সময় গত সোমবার নতুন এ অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত (ইন্টারিম ফাইনাল) বিধি ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) আশ্রয়বিষয়ক কর্মকর্তারা আর আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় থাকবেন না। প্রয়োজন মনে করলে তারা সরাসরি মামলাটি অভিবাসন আদালতের বিচারকের কাছে পাঠাতে পারবেন।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) বিদ্যমান নীতিমালা থেকে সেই ভাষাও বাদ দিয়েছে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পাওয়াকে একটি ‘অধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, “অনেক দিন ধরেই আশ্রয় ব্যবস্থা প্রকৃত সুরক্ষার দাবির পরিবর্তে সময়ক্ষেপণ এবং কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অপব্যবহার হয়ে আসছে।”

তার ভাষায়, নতুন এ নিয়ম প্রকৃত আশ্রয় দাবিগুলোর দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির জন্য সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

ডিএইচএসের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭২৪টি মামলা নতুন এ নীতির আওতায় পড়বে।

মঙ্গলবার ফেডারেল রেজিস্টারে নতুন বিধিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রবিন বার্নার্ড বলেন, মামলার জট কমানোর নামে প্রশাসন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় না। বরং ব্যাপক হারে আবেদন খারিজ এবং অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কারের পথই বেছে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই নিয়মও সেই নীতিরই অংশ।

এর আগে প্রশাসন প্রায় সাড়ে তিন লাখ হাইতির নাগরিকের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্যতার শর্তও আরও কঠোর করা হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিধান কার্যকর হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোলেও ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের দাবি উপস্থাপনের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। সূত্র: মায়ামি হেরাল্ড, হস্টন পাবলিক মিডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights