যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড টিকার কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণা প্রকাশে বাধা
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ টিকা কতটা কার্যকরভাবে গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে রক্ষা করছে—এ নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশে বাধা দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানব সেবা দপ্তরের (এইচএইচএস) এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধের কারণেই প্রকাশনা স্থগিত করা হয়েছে।
গবেষণা পত্রটি মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সেন্টারস ফর ডিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন -সিডিসি) এর প্রধান প্রকাশনা ‘মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল।
সাধারণত, কোভিড-১৯ টিকার কার্যকারিতা যাচাই করতে হাসপাতালে ভর্তি বা জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা হয়—কতজন রোগী টিকা নিয়েছেন এবং টিকা নেওয়া ও না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। এই পদ্ধতিতে তৈরি গবেষণা ইতোমধ্যেই একাধিক স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
একই পদ্ধতি অনুসরণ করে মার্কিন নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গত শীতে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগে যাওয়া ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়েছে কোভিড টিকা। প্রথমে এই তথ্য প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
এদিকে, এইচএইচএস স্পষ্ট করে জানায়নি ঠিক কোন কারণে এই গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাদের মতে, আগের সংক্রমণ, ব্যক্তিগত আচরণ এবং কারা চিকিৎসা নিতে আসছেন—এসব বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও, অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানী এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত নন।
আটলান্টাভিত্তিক চিকিৎসক ফিওনা হ্যাভার্স বলেন, এই পদ্ধতি এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাতে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্যজনিত প্রভাব কমে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এত বেশি মানুষ আগে থেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যে আগের সংক্রমণ বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া কোনো গবেষণা পদ্ধতিই নিখুঁত নয়, তবে বাস্তব সময়ে টিকার কার্যকারিতা নির্ধারণে এর চেয়ে বাস্তবসম্মত ও বিকল্প এখনো প্রস্তাব করা হয়নি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল যে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তরা এমএমডব্লিউআর-এ কী প্রকাশ হবে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর এমএমডব্লিউআর-এর প্রকাশনা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে তা পুনরায় চালু হলেও আগের তুলনায় এর পরিধি কমে গেছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা সময়োপযোগী, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য তথ্যের জন্য এমএমডব্লিউআর-এর ওপর নির্ভর করেন। বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের কণ্ঠরোধ করলে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সিডিসিকে অবশ্যই এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
