যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে কফি পানের হার ১৪ বছরে সর্বোচ্চ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাফে বা কফি শপের চেয়ে ঘরে বসে কফি পান করতেই মানুষ বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। ন্যাশনাল কফি অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে ঘরে কফি পানের হার ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এনসিএর তথ্যমতে, গত একদিনে যারা কফি পান করেছেন, তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই তা বাড়িতে তৈরি করেছে। ২০১২ সালের পর এ হার সর্বোচ্চ। বিপরীতে কভিডের আগে কফি শপগুলোয় গিয়ে কফি পানের যে প্রবণতা ছিল, তাতে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। যারা বাইরে কফি পান করছে, তাদের অধিকাংশেরই পছন্দের জায়গা এখন কর্মস্থল কিংবা যাতায়াতের পথে ড্রাইভ-থ্রু।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও নেসলের সাবেক নির্বাহী গের্ড মুলার-ফাইফার মনে করেন, হাইব্রিড জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক চাপ-এ দুই কারণে মানুষ এখন ঘরে কফি পানের দিকে ঝুঁকছে। সেই সঙ্গে কফি তৈরির মেশিনগুলো থেকে ঘরেই এখন প্রায় ক্যাফে মানের কফি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ঘরে কফি পানের প্রবণতা বাড়ানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

এছাড়া গত বছর প্রধান কফি উৎপাদনকারী দেশগুলোয় উৎপাদন ঘাটতির ফলে বিশ্ববাজারে কফির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। উচ্চমূল্যের বাজারে সাশ্রয় করতে গিয়ে অনেকেই দামি কফি শপের বদলে ঘরোয়া উপায় বেছে নিচ্ছে।

এনসিএর জরিপে অংশ নেয়া ৬৬ শতাংশ মার্কিন প্রতিদিন কফি পান করে। এমনকি বোতলজাত পানির চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে কফির জনপ্রিয়তা বেশি। বর্তমানে দেশটিতে একজন কফিপ্রেমী দৈনিক গড়ে ২ দশমিক ৮ কাপ কফি পান করে। সে হিসাবে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০ কোটি কাপ কফি পান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights