যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের উত্থান: ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেমন হবে

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধকৌশলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখানে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শুধু সহায়ক ভূমিকা নয়, সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত হচ্ছে। এতে একদিকে মানবিক ঝুঁকি কমছে, অন্যদিকে নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন বাড়ছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি ডেভড্রয়েড প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি গলিতে রুশ সেনারা হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণ করছে। তাদের সামনে অস্ত্র তাক করে আছে একটি স্থলভিত্তিক যুদ্ধ রোবট, যা এআই-এর সহায়তায় পরিচালিত। দৃশ্যটি অনেকটা কম্পিউটার গেমের মতো হলেও এটি বাস্তব যুদ্ধের অংশ।

এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো পুরোপুরি মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম—স্থল রোবট ও ড্রোন—ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের একটি অবস্থান দখল করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসে ইউক্রেনীয় স্থল রোবটগুলো ২২ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে।

আগে এসব রোবট মূলত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও নজরদারিতে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন এগুলো গোলাবারুদ, খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি আহত সেনাদের উদ্ধারেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু ব্রিগেড জানিয়েছে, সামনের সারির প্রায় ৭০ শতাংশ রসদ এখন সৈন্য নয়, রোবটের মাধ্যমেই পাঠানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধের দীর্ঘ বিবর্তনের অংশ। ২০০০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা দূরনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের সূচনা করলেও, বর্তমান এআই প্রযুক্তি লক্ষ্য শনাক্তকরণ, আক্রমণের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধে কতটা ক্ষমতা মেশিনের হাতে দেওয়া উচিত। বর্তমানে ইউক্রেনে মানব অপারেটররা রোবট নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বিশ্বজুড়ে স্বয়ংক্রিয় বা ‘কিলার রোবট’ ব্যবহারের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, নিয়ন্ত্রণহীন এআই যুদ্ধকে আরও দ্রুত, ভয়াবহ এবং অমানবিক করে তুলতে পারে।

অনেকের মতে, ইউক্রেন এখন এসব প্রযুক্তির পরীক্ষাগার। মানবিকতা রক্ষায় ভবিষ্যৎ সংঘাতে আন্তর্জাতিকভাবে এআই চালিত অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন কেউ কেউ। সূত্র :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights