যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রাথমিক সমঝোতা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ভার্সন

যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে চুক্তিটি এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে দফায় দফায় আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে চুক্তিটি এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি। এদিকে তেহরান থেকে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি আলোচনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

গত কয়েক দিনে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দেশই একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার তারা ওই অঞ্চলে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এর আগে বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দুই দেশের সম্ভাব্য ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের অনানুষ্ঠানিক খসড়ার কিছু অংশ প্রকাশ করে।

সেই খসড়ায় বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি ওই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা ও রুট নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান ও ওমান।

তবে হোয়াইট হাউস ওই খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের ওপর নতুন হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। তবে ইরানের প্রস্তাব এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং আরও কাজ বাকি রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর এই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights