যুদ্ধের আগে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করেনি ইরান: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান

অনলাইন ডেস্ক

ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসলেও এবার এই কর্মসূচি নিয়েই উল্টো সুরে কথা বলেছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা নতুন করে গড়ে তুলছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে এক লিখিত সাক্ষ্যে গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপণাগুলোতে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটি আর সেই কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করেনি।

‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তারপর ইরানের সেই কর্মসূচি নতুন করে চালুর কোনও চেষ্টা দেখা যায়নি।

বুধবার সামনে আসা এই তথ্য ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান যুক্তিকে কমজোর করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা থেকে সরে গিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বারবার তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাই উল্লেখ করে এসেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। যত সময় যাচ্ছে, সেই সামরিক সংঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

ইরান দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে, তারা কোনও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে না। পারমাণবিক এবং অস্ত্র পর্যবেক্ষকরাও বরাবরই বলে এসেছেন, তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথেও থাকে, তবুও তা স্বল্প বা মধ্যমেয়াদি কোনও হুমকি নয়।

কিন্তু তার পরও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বার বার আঙুল তুলেছে। ইরানের ওপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলেও বসে যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু আলোচনা থেকে কোনও ফল আসছে না বলে দাবি করছিলেন ট্রাম্পের কর্মকর্তারা।

যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী-সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনও অগ্রগতি হচ্ছে না—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবি নাকচ করেন।

চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ব্রিটিশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল চূড়ান্ত দফা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তার মূল্যায়ন ছিল,ইরানের যে অবস্থান তিনি দেখেছেন, তাতে তাড়াহুড়ো করে যুদ্ধে জড়ানোর কোনও যৌক্তিকতা ছিল না।

ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নির্দিষ্ট কোনও যুক্তিতে স্থির থাকেনি। তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর প্রতি ইরানের সম্ভাব্য হুমকি এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরান সরকারের সামগ্রিক কার্যকলাপের দিকেও যুক্তরাষ্ট্র আঙুল তুলেছে।

আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় একটি সার্বভৌম দেশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দিতে ‘আসন্ন হুমকি’ ধারণাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন আইনের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যার আওতায় প্রেসিডেন্টরা কেবল তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার খাতিরে সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগাতে পারেন। তা নাহলে একমাত্র কংগ্রেসই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা বা বর্ধিত সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights