যুদ্ধের আগে যেত ১৪০টা জাহাজ, যুদ্ধবিরতির পর কটা যাচ্ছে জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৬টিতে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে।
দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত বাড়ার পর থেকেই এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলত, এখন তা কমে হাতে গোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের ফি বা বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকা উচিত।

তবে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে—জাহাজ চলাচলে শর্ত আরোপ করা হতে পারে।

এদিকে আইআরজিসি বিকল্প নৌপথের মানচিত্র দিয়েছে বলে জানা গেছে। নৌ-মাইন এড়াতে জাহাজগুলোকে নতুন পথ অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে। কিছু এলাকাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় চলাচলের জন্য ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হচ্ছে। এর ফলে আগের রুট বদলে গেছে। আগে যেসব ট্যাংকার ওমানের কাছ দিয়ে যেত, এখন সেগুলোকে ইরানের উপকূলের দিকে ঘেঁষে চলতে হচ্ছে।

আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে এই প্রণালি সব ধরনের শর্ত ছাড়াই খোলা থাকা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights