যুদ্ধ ও কূটনীতি দুটিতেই প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও কূটনীতি ও আলোচনার পথ এখনই বন্ধ করছে না তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থরক্ষায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা মানেই কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করা নয়।
স্পিকার গালিবাফ তেহরানের নীতিনির্ধারকদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা—উভয় পথেরই সুরক্ষাকবচ হিসেবে সমন্বয় সাধন করা জরুরি। দেশের স্বার্থরক্ষায় যুদ্ধ এবং আলোচনা দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার, তাই ইরান যুদ্ধ কিংবা আলোচনা কোনোটাকেই ভয় পায় না। অতীতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে দেশের কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়লেও, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় জাতীয় স্বার্থেই তিনি কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজায় অংশ নিতে কাতার সফর করেছেন। কাতার এর আগেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সফল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায়, এই সফরের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে নতুন কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগের সূত্রপাত হচ্ছে কি না—তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন অভিযোগ এনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ অমান্য করার চেষ্টাকালে একটি খালি তেল ট্যাংকারও জব্দ করেন মার্কিন সেনারা।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, ইরান ইন্টারন্যাশনাল
